ইচ্ছা হ’লে আপনার লয়ে করুন আহার,
কি করিব আমি মন্দ ভাগ্য॥
ইহা শুনি দশানন, হস্ত পদ সঞ্চালন,
করি ভাক্ত ক্রোধ প্রকাশিয়া।
বলে আমি এতক্ষণ, বুঝিলাম তব মন,
চাইনা ভিক্ষা যাই শাপ দিয়া॥
কার্য্য কি আমার এত, ভিক্ষা জন্য ধর্ম্মচ্যুত,
হব এই সামান্য কারণে।
করি ব্রহ্মচর্য্য ব্রত, গৃহ হতে বহির্গত,
হয়েছি, না যাব এ জীবনে॥
সন্ন্যাসীর আচরণ, জান না তুমি কখন,
নৈলে কেনে ডাকিবে নিকটে।
রক্ষা নাই কদাচন, গণ্ডুষে জল গ্রহণ,
করিলাম পড়িলে সঙ্কটে॥
এইরূপে ছদ্ম বেশী, দুর্ব্বৃত্ত রাবণ সন্ন্যাসী,
লম্ফ ঝম্ফ করিতে লাগিল।
দেখি সীতা মুখ-শশী, ভয়রূপ রাহু আসি,
গ্রাসি অম্নি মলিন করিল।
অটল অচল প্রায়, ক্ষণেক এরূপে যায়,
কর্ত্তব্যতা মনে বিচারিল॥
আসিয়া কুটীর দ্বারে, ভিক্ষা নিতে বারে বারে
ব’লে যখন হ’লনা সুসার।
কিহেতু বিলম্ব করে, সূর্য্য বংশ একেবারে,
ব্রহ্ম শাপে করি ছার খার॥
মনে ইহা চিন্তা করি, ফল মূল করে পূরি,
কুটীরের বাহিরে আসিল
অমনি সাপটি ধরি, ছদ্মবেশ পরিহরি,
লঙ্কেশ্বর রথেতে উঠিল॥
ভাগ্যলক্ষ্মী পদে দলি, সীতায় রথেতে তুলি,
সারথিরে বলিল রাবণ।
অতি শীঘ্র যাও চলি, যেন লঙ্কা পথ ভুলি,
অন্যত্র না করহ গমন॥