পাতা:সীমান্ত গান্ধী - সুকুমার রায়.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বাল্য ও শিক্ষা

 শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের প্রতি বাল্যকাল হইতেই গফুর খানের বিশেষ আগ্রহ ছিল। অতি অল্প বয়সেই তাহাকে মিউনিসিপ্যাল স্কুলে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর তিনি ‘চার্চ অব ইংলণ্ড মিশন’ স্কুলে ভর্তি হন। তাঁহার ভ্রাতা ডাঃ খান সাহেবও পেশোয়ারে এই মিশন স্কুলের ছাত্র ছিলেন। এই বিদ্যালয়ে গফুর খান পাশ্চাত্য শিক্ষালাভের প্রভূত সুযোগ পান। এই স্থানে তিনি উইগরাম নামে একজন ধার্মিক মিশনারীর সংস্পর্শে আসেন। মিশন স্কুলের অধ্যক্ষ রেভারেণ্ড ই এফ ই উইগরাম উদারনৈতিক মতবাদ ও স্বাধীন চিন্তার পরিপোষক ছিলেন। উইগরামের শিক্ষা গফুর খানকে এই দুইটি গুণেরই অধিকারী করিয়াছে। গফুর খান ভবিষ্যৎ জীবনে বহুবার এই শিক্ষাগুরুর নিকট তাঁহার ঋণের কথা শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করিয়াছেন। ইংরাজ-চরিত্রের বিবিধ গুণাবলীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবশতঃই তিনি ভবিষ্যতে একে একে তাঁহার পুত্রদের শিক্ষার জন্য ইংলণ্ডে প্রেরণ করেন।

 উচ্চশিক্ষাভিলাষে আবদুল গফুর খান যেদিন আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করিলেন, সেদিনটি উটামানজাই পরিবারের পক্ষে একটি বড়ই শুভদিন। সে সময় আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম জাতীয় শিক্ষার কেন্দ্রস্বরূপ ছিল। বর্তমানের ন্যায় সে সময় আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষার দ্বন্দ্বভূমি ছিল না। দেশপ্রেম ও জাতীয়তার আদর্শই সেখানে প্রাধান্যলাভ করিয়াছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই তরুণ