পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড.djvu/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।


সে পোঁটলা উঁচিয়ে দাঁত কড়্‌মড়্‌ করে বলল, “তবে রে ইস্‌টুপিড্‌ উধো!” উধোও আস্তিন গুটিয়ে হুঁকো বাগিয়ে হুংকার দিয়ে উঠল, “তবে রে লক্ষ্মীছাড়া বুধো!”

কাক বলল, “লেগে যা, লেগে যা—নারদ-নারদ!”

অমনি ঝটাপট্‌, খটাখট্‌, দমাদম্, ধপাধপ্‌! মুহুর্তের মধ্যে চেয়ে দেখি উধো চিৎপাত শুয়ে হাঁপাচ্ছে, আর বুধো ছট্‌ফট্‌ করে টাকে হাত বুলোচ্ছে।

বুধো কান্না শুরু করল, “ওরে ভাই উধো রে, তুই এখন কোথায় গেলি রে?”

উধো কাঁদতে লাগল, “ওরে হায় হায়! আমাদের বুধোর কি হল রে!”

তার পর দুজনে উঠে খুব খানিক গলা জড়িয়ে কেঁদে, আর খুব খানিক কোলাকুলি করে, দিব্যি খোশমেজাজে গাছের ফোকরের মধ্যে ঢুকে পড়ল। তাই দেখে কাকটাও তার দোকানপাট বন্ধ করে কোথায় যেন চলে গেল।

আমি ভাবছি এইবেলা পথ খুঁজে বাড়ি ফেরা যাক, এমন সময় শুনি পাশেই একটা ঝোপের মধ্যে কিরকম শব্দ হচ্ছে, যেন কেউ হাসতে হাসতে আর কিছুতেই হাসি সামলাতে পারছে না। উঁকি মেরে দেখি, একটা জন্তু–মানুষ না বাঁদর, প্যাঁচা না ভূত, ঠিক বোঝা যাচ্ছে না—খালি হাত-পা ছুড়ে হাসছে, আর বলছে, “এই গেল গেল—নাড়ি-ভুঁড়ি সব ফেটে গেল।”

সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড ২০.png

হঠাৎ আমায় দেখে সে একটু দম পেয়ে উঠে বলল, “ভাগ্যিস তুমি এসে পড়লে, তা না হলে আর একটু হলেই হাসতে-হাসতে পেট ফেটে যাচ্ছিল।”

আমি বললাম, “তুমি এমন সাংঘাতিক রকম হাসছ কেন?”

জন্তুটা বলল, “কেন হাসছি শুনবে? মনে কর, পৃথিবীটা যদি চ্যাপটা হত, আর সব জল গড়িয়ে ডাঙায় এসে পড়ত, আর ডাঙার মাটি সব ঘুলিয়ে প্যাচ্‌প্যাচে কাদা হয়ে যেত, আর লোকগুলো সব তার মধ্যে ধপাধপ্‌ আছাড় খেয়ে পড়ত, তা হলে—হোঃ হোঃ হোঃ হো—” এই বলে সে আবার হাসতে-হাসতে লুটিয়ে পড়ল।

আমি বললাম, “কি আশ্চর্য! এরজন্য তুমি এত ভয়ানক করে হাসছ?”

সে আবার হাসি থামিয়ে বলল, “না, না, শুধু এরজন্য নয়। মনে কর, একজন লোক

হ য ব র ল

 সু. স. র.—২-২
১৭