পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড.djvu/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

আমি বললাম, ”গেল তো গেল, আপদ গেল। তুমি এখন চুপ কর।”

শেয়াল জিজ্ঞাসা করল, “তুমি মোকদ্দমার বিষয়ে কিছু জানো?”

হিজি বিজ্‌ বিজ্‌ বলল, “তা আর জানি নে? একজন নালিশ করে তার একজন উকিল থাকে, আর একজনকে আসাম থেকে নিয়ে আসে, তাকে বলে আসামী। তারও একজন উকিল থাকে। এক-একদিকে দশজন করে সাক্ষী থাকে। আর একজন জজ থাকে, সে বসে-বসে ঘুমোয়।”

প্যাঁচা বলল, “কক্ষনো আমি ঘুমোচ্ছি না, আমার চোখে ব্যারাম আছে তাই চোখ বুজে আছি।”

হিজি বিজ্‌ বিজ্‌ বলল, “আরো অনেক জজ দেখেছি, তাদের সক্কলেরই চোখে ব্যারাম।” বলেই সে ফ্যাক্‌ফ্যাক্‌ করে ভয়ানক হাসতে লাগল।

শেয়াল বলল, “আবার কি হল?”

হিজি বিজ্‌ বিজ্‌ বলল, “একজনের মাথার ব্যারাম ছিল, সে সব জিনিসের নামকরণ করত। তার জুতোর নাম ছিল অবিমৃষ্যকারিতা, তার ছাতার নাম ছিল প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, তার গাড়ুর নাম ছিল পরমকল্যাণবরেষু—কিন্তু যেই তার বাড়ির নাম দিয়েছে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অমনি ভূমিকম্প হয়ে বাড়িটাড়ি সব পড়ে গিয়েছে। হোঃ হোঃ হোঃ হো—”

শেয়াল বলল, “বটে? তোমার নাম কি শুনি?”

সে বলল, “এখন আমার নাম হিজি বিজ্‌ বিজ্‌।”

শেয়াল বলল, “নামের আবার এখন আর তখন কি? হিজি বিজ্‌ বিজ্‌ বলল, “তাও জানো না? সকালে আমার নাম থাকে আলুনারকোল আবার আর একটু বিকেল হলেই আমার নাম হয়ে যাবে রামতাড়ু।”

শেয়াল বলল, “নিবাস কোথায়?”

হিজি বিজ্‌ বিজ্‌ বলল, “কার কথা বলছ? শ্রীনিবাস? শ্রীনিবাস দেশে চলে গিয়েছে।” অমনি ভিড়ের মধ্যে থেকে উধো আর বুধো একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল, “তা হলে শ্রীনিবাস নিশ্চয়ই মরে গিয়েছে!”

উধো বলল, “দেশে গেলেই লোকেরা সব হুস্হুস্ করে মরে যায়।”

বুধো বলল, “হাবুলের কাকা যেই দেশে গেল অমনি শুনি সে মরে গিয়েছে।”

শেয়াল বলল, “আঃ, সবাই মিলে কথা বোলো না, ভারি গোলমাল হয়।”

শুনে উধো বুধোকে বলল, “ফের সবাই মিলে কথা বলবি তো তোকে মারতে-মারতে সাবাড় করে ফেলব।” বুধো বলল, “আবার যদি গোলমাল করিস তা হলে তোকে ধরে এক্কেবারে পোঁটলা-পেটা করে দেব।”

শেয়াল বলল, “হুজুর, এরা সব পাগল আর আহাম্মক, এদের সাক্ষীর কোনো মূল্য নেই।”

শুনে কুমির রেগে ল্যাজ আছড়িয়ে বলল, “কে বলল মূল্য নেই? দস্তুরমতো চার আনা পয়সা খরচ করে সাক্ষী দেওয়ানো হচ্ছে।” বলেই সে তক্ষুনি ঠক্‌ঠক্‌ করে ষোলোটা পয়সা গুণে হিজি বিজ্‌ বিজের হাতে দিয়ে দিল।

সু. স. র.—২-৩
২৫