পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড.djvu/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জালা-কু জো সংবাদ পেট মোটা জালা কয়, “হেসে আমি মরি রে কু জো তোর হেন গলা এতটুকু শরীরে ” কু জো কয়, “কথা কস্ আপনাকে না চিনে, ভুড়িখানা দেখে তোর কেঁদে আর বঁচি নে ৷” জালা কয়, “সাগরের মাপে গড়া বপুখান, ডুবুরিরা কত তোলে তবু জল অফুরান ।” কু জো কয়, “ভালো কথা ! তবে যদি দৈবে, ভুড়ি যায় ভেভিয়ে, জল কোথা রইবে ?” “নিজ কথা ভুলে যাস ?” জালা কয় গজে, “ঘাড়ে ধরে হেট করে জল নেয় তোর যে ” কু জো কয়, “নিজ পায়ে তবু খাড়া রই তো— বি ড়ে বিনা কুপোকাৎ, তেজ তোর ঐ তো ।” সন্দেশ–চৈত্র, ১৩২৭ নীচের বাতিক বয়স হল অচটআশি, চিম্সে গায়ে ঠুনকো হাড়, নাচছে বুড়ো উলটোমাথায়—ভাঙলে বুঝি মুণ্ডুঘাড় । হেইও বলে হাত-পা ছেড়ে পড়ছে তেড়ে চিৎপটাং, উঠছে আবার ঝটুপটিয়ে এক্কেবারে পিঠ সটান । বুঝিয়ে বলি, “বুদ্ধ, তুমি এই বয়েসে করছ কি ? খাও-না খানিক মসলা গুলে হকোর জল আর হরতকী । ঠাণ্ডা হবে মাথার আগুন, শান্ত হবে ছট্‌ফটি—” বৃদ্ধ বলে, “থামৃ-না বাপু, সব তাতে তোর পটুপটি । ঢের খেয়েছি মসলা পাচন, ভের মেখেছি চবি তেল , তুই ভেবেছিস আমায় এখন চাল মেরে তুই করবি ফেলে ?” এই-না বলে ডাইনে বায়ে লম্ফ দিয়ে হুশৃ করে হঠাৎ খেয়ে উলুটোবাজি ফেলল আমায় পুশ করে। D “নাচলে আমন উলুটোরকম", আবার বলি বুঝিয়ে তায়, “রক্তগুলো হুড় হুড়িয়ে মগজপানে উজিয়ে মায় ।” কবিতাপুৰ Iso ‘84