পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড.djvu/৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বলল বুড়ো, “কিন্তু বাবা, আসল কথা সহজ এই— ঢের দেখেছি-পরখ করে, কোথাও আমার মগজ নেই । তাইতে আমার হয় না কিছু—মাথায় যে সব ফক্কিফাক— যতই নাচি উলুটো নাচন, যতই না খাই চকিপাক ৷” বলতে গেলাম—“তাও কি হয়”—আমনি হঠাৎ ঠ্যাং নেড়ে আবার বুড়ো হুড়মুড়িয়ে ফেলল আমায় ল্যাং মেরে ভাবছি সবে মারব ঘুষি এবার বুড়োর রগ ঘেঁষে, বললে,বুড়ো, “করব কি বল ? করায় এ-সব অভ্যেসে । ছিলাম যখন রেল-দারোগা চড়তে হত “ট্ৰেইনেতে চলতে গিয়ে ট্রেনগুলো সব পড়ত প্রায়ই ড্রেইনেতে । তুবড়ে যেত রেলের গাড়ি, লাগত ও তো চাক্কাতে, ছিটকে যেতাম যখন তখন হঠাৎ এক-এক ধাক্কাতে । নিত্যি ঘুমোই-একচোখে তাই, নড়লে গাড়ি—আমনি ‘বাপু”— এমনি করে ডিগ্ৰবাজিতে এক্কেবারে শূন্যে লাফ । তাইতে হল নীচের নেশা, হঠাৎ হঠাৎ নাচন পায়, বসতে শুতে আপনি ভুলে ডিগৃবাজি খাই আচমকায় । নাচতে গিয়ে দৈবে যদি ঠ্যাং লাগে তোর পাজরাতে, তাই বলে কি চটতে হবে ? কিম্বা রাগে গজরাতে ?” আমিও বলি, “ঘাট হয়েছে, তোমার ক্ষুরে দণ্ডবৎ ! লাফাও তুমি যেমন খুশি, আমরা দেখি অন্য পথ ।” সন্দেশ—চৈত্র, ১৩২৭ সুকুমার সমগ্র রচনাবলী :