পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড.djvu/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এবং সেই চুরি ঢাকিবার জন্য মুকুটের মধ্যে খাদ মিশাইয়াছে । কোনো সহজ উপায়ে এই চুরি ধরা যায় কিনা জানিবার জন্য তিনি বন্ধু আকিমিডিসকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। আকিমিডিস সব শুনিয়া বলিলেন, “একটু ভাবিয়া বলিব ।” ভাবিতে ভাবিতে কয়েকদিন কাটিয়া গেল । একদিন স্নানের সময়ে কাপড় ছাড়িয়া সবে তিনি স্নানের টবে পা দিয়াছেন, এমন সময় খানিকটা জল উছলিয়া পড়ামাত্র, হঠাৎ সেই প্রশ্নের এক চমৎকার মীমাংসা তাহার মাথায় আসিল । তখন কোথায় গেল স্নান ! তিনি তৎক্ষণাৎ, Eureka | Eureka ' ( পেয়েছি । পেয়েছি । ) বলিয়া রাস্তায় ছুটিয়া বাহির হইলেন । যে জিনিস পাইয়া তিনি আনন্দে এমন আত্মহারা হইয়াছিলেন, বিজ্ঞানে এখনো তাহাকে ‘আকিমিডিসের তত্ত্ব’ বলা হয় । ভারী জিনিসকে জলে ছাড়িলে, তাহার “ওজন” কমিয়া যায় কি পরিমাণ কমিবে তাহাও হিসাব করিয়া বলা যায়। কোনো হাল্কা জিনিসকে জলে ভাসাইলে, তাহার খানিকটা ডোবে খানিকটা ভাসিয়া থাকে । ঠিক কতখানি ডোবে তাহারও হিসাব আছে । আকিমিডিসের তত্ত্বে এই-সকল কথারই আলোচনা করা হইয়াছে। ,আকিমিডিস রাজাকে বলিলেন, “ঐ মুকুটের ওজন যতখানি, ঠিক সেই ওজনের সোনা লইয়া একটা জলভরা পাত্রে পরীক্ষা করিতে হইবে। পাত্রের মধ্যে মুকুটটা ডুবাইয়া দিলে কতখানি জল উছলিয়া পড়ে, তাহা মাপিয়া দেখুন, তার পর আবার জল ভরিয়া সেই ওজনের একতাল সোনা ডুবাইয়া দেখুন কতটা জল পড়ে। মুকুট যদি খাটি সোনার হয়, তবে দুইবারেই ঠিক একই পরিমাণ জল বাহির হইবে। যদি খাদ মিশানো থাকে, তবে মুকুটটা সেই ওজনের সোনার চাইতে আয়তনে কিছু বড়ো হইবে, সুতরাং তাহাতে বেশি জল ফেলিয়া দিবে।” কোনো কোনো চশমার কাচ এমন থাকে যে, তাহাতে অনেকখানি সূর্যের আলোককে অল্প জায়গার মধ্যে ধরিয়া তানা যায় । সেইরকম কাচ বেশ বড়ো করিয়া বানাইলে, তাহার মধ্যে রোদ ধরিয়া আগুন জ্বালানো চলে । সরার মতো গর্তওয়ালা আরশি দিয়াও এই কাজটি করানো যায়। আকিমিডিস এইরকম আরশিও বানাইয়াছিলেন । শোনা যায়, রোমের যুদ্ধ-জাহাজ যখন সাইরাকিউস আক্ৰমণ করিতে আসে, তখন তিনি এইরকম আরশি দিয়া কড়া রোদ ফেলিয়া, তাহাতে আগুন ধরাইয়া দেন । কেবল তাহাই নয়, রোমীয় সেনাপতি মার্সেলাস যখন সৈন্য-সামন্ত লইয়া সাইরাকিউস আক্রমণ করিতে আসেন, তখন আকিমিডিস নগররক্ষার জন্য নানারকম অদ্ভুত নূতন নুতন যুদ্ধযন্ত্রের আয়োজন করিলেন । সে-সকল যন্ত্রের পরিচয় পাইয়া রোমীয় সৈন্য বহুদিন পর্যন্ত নগরের কাছে ঘেঁষিতে সাহস পায় নাই । তাহার পরে কত যুগ যুগ ধরিয়া, দেশে দেশে আকিমিডিসের অদ্ভুত কীতির কথা লোকের মুখে শোনা যাইত । রোমীয় সৈন্যেরা সে-সকল যুদ্ধযন্ত্রের যে বর্ণনা দিয়াছে তাহা পড়িলে বেশ বুঝা যায়, সেগুলি তাহাদের মনে কিরকম ভয়ের সঞ্চার করিয়াছিল । বড়ো-বড়ো থামের মতো চড়া হঠাৎ দেয়ালের উপর মাথা তুলিয়া হুড়হড় করিয়া শঙ্কর উপর রাশি রাশি পাথর ছুড়িয়া মারে, আবার পর মুহুর্তেই দেয়ালের পিছনে ডুব মারে। বড়ো-বড়ো কলের ধাক্কায় কড়ি বড়গা ছুটিয়া শঙ্কর জাহাজে গিয়া পড়ে, দূর হইতে প্রকাণ্ড নখালো সাড়াশি छौबर्मी ԳՖ