পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড.djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পৃথিবী ভ্রমণে বাহির হইল—ডারুইন বিনা বেতনে প্রাপিতত্ত্ব সংগ্রহের জন্য তাহার সঙ্গে যাইবার অনুমতি পাইলেন । পাঁচ বৎসর জাহাজে করিয়া তিনি পৃথিবীর নানাস্থান ঘুরিয়া বেড়াইলেন এবং প্রাণিতত্ত্ব বিষয়ে এমন আশ্চর্য নুতন জ্ঞান লাভ করিলেন যে, তাহা তাহার সমস্ত চিন্তা ও জীবনকে একেবারে নূতন পথে লইয়া চলিল। ডারুইন বলেন ইহাই তাহার জীবনের সবচাইতে সমরণীয় ঘটনা । তার পর কুড়ি বৎসর ধরিয়া ডারুইন এই-সমস্ত বিষয় লইয়া গভীরভাবে আলোচনা করিতে লাগিলেন । প্রাচীনকালে যে-সকল জীবজন্ত পৃথিবীতে ছিল, আজ তাহারা নাই, কেবল কতগুলি কঙ্কালচিহ দেখিয়া আমরা তাহার পরিচয় পাই । আজ যে-সকল জীবজন্তু দেখিতেছি, তাহারাও ভু ইফোড় হইয়া হঠাৎ দেখা দেয় নাই—ইহারাও সকলেই সেই আদিমকালের কোনো-না-কোনো জন্তুর বংশধর । কেমন করিয়া এ পরিবর্তন হইল ? এরূপ পরিবর্তন হইবার কারণ কি ? যে গাছের যে ফল তাহার বীচি পুঁতিলে সেই ফলেরই গাছ হয়, তাহাতে সেইরূপই ফল ফলে, আমরা তো এইরাপই দেখি । যে জন্তুর আকার-প্রকার যেমন, তার ছানাগুলাও হয় সেরাপ । শেয়ালের বংশে শেয়ালই জন্মে । শেয়ালের ছানা, তার ছানা, তার ছানা, তার ছানা, এরূপ যতদূর দেখিতে পাই সকলেই তো শেয়াল। তবে এ আবার কোন সৃষ্টিটছাড়া নিয়ম, যাহাতে এক জন্তুর বংশে ক্রমে এমন জন্তুর জন্ম হয়, যাহাকে আর সেই বংশের সন্তান বলিয়া চিনিবার জো থাকে না ? ডারুইন দেখিলেন তিনি যে-সমস্ত নুতন তত্ত্ব জানিয়াছেন, তাহার মধ্য হইতেই নানা দৃস্টান্ত দেখাইয়া এই-সকল প্রশ্ন ও সন্দেহের অতি চমৎকার মীমাংসা করা যায় । যাহারা ওস্তাদ মালী তাহারা ভালো-ভালো গাছের ‘কলম’ করিবার সময়, বা বীজ পুঁতিবার সময় যে সে গাছের বীজ বা কলম লইয়া কাজ করে না । ভালো গাছ, ভালো ফুল, ভালো ফল বাছিয়া বাছিয়া, তাহাদের মধ্যে নানারকম মিশাল করাইয়া, খুব সাবধানে পছন্দমতো গাছ ফুটাইয়া তোলে । যেগুলা তাহার পছন্দসই নয়, সেগুলাকে সে একেবারেই বাদ দেয় । তাহার ফলে অনেক সময় গাছের চেহারার আশ্চর্যরকম উন্নতি ও পরিবর্তন দেখা যায়। একটা সামান্য জংলি ফুল আজ মানুষের চেস্টা ও যত্নে সুন্দর গোলাপ হইয়া উঠিয়াছে—নানা লোকে গোলাপের চর্চা করিয়া আপন পছন্দমতো নানারাপ বাছাই করিয়া, নানারকম মিশাল দিয়া কত যে নূতনরকমের গোলাপ গড়িয়া তুলিয়াছে, তাহার আর অন্ত নাই । যাহারা ব্যবসার জন্য বা শখের জন্য নানারাপ জন্তু পালে তাহারা জানে যে, কোনো জন্তুর বংশের উন্নতি করিতে হইলে, রুগৃণ কুৎসিত বা অকৰ্মণ্য জন্তুগুলাকে বাদ দিতে হয় । তাহার পর যেরাপ গুণ ও লক্ষণ দেখিয়া বাছিয়া বাছিয়া জোড় মিলাইবে, বংশের মধ্যে সেই-সব লক্ষণ ও গুণ পাকা হইয়া উঠিবে । লম্বা শিংওয়ালা ভেড়া চাও তো বাছিবার সময় লম্বা শিং দেখিয়া বাছিবে । তাহাদের যে-সব ছানা হইবে, তাহাদের মধ্যে যেগুলার শিং ছোটো তাহাদের বাদ দিবে। এইরূপে কমে লম্বা শিঙের দল গড়িয়া উঠিবে । Ç ডারুইন দেখিলেন, মানুষের বুদ্ধিতে যেমন নানারকম বাছাবাছি চলে, প্রাণিজগতেও সর্বত্রই স্বাভাবিকভাবে সেইরূপ বাছাবাছি চলে। যারা রুগৃণ যারা দুর্বল, মরিবার সময় ዓNow সুকুমার সমগ্র রচনাবলী । ২