পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড.djvu/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই খোড়া মুচির নাম সকলের কাছে স্মরণীয় রাখিবার জন্য, তাহার ভক্তেরা মিলিয়া তাহার একটি পাথরের মৃতি প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন । সন্দেশ-শ্রাবণ, ১৩২৫ পণ্ডিতের খেলা সে প্রায় দেড়শত বৎসরের আগেকার কথা, একদিন এক ইংরাজ বুড়ি তাহার জানলা দিয়া দেখিতে পাইল যে, পাশের বাড়িতে বাগানে বসিয়া একজন বয়স্ক লোক সারাদিন কেবল বুদ্ধ দ উড়াইতেছে । দুদিন চারদিন এইরকম দেখিয়া বুড়ি ভাবিল লোকটা নিশ্চয় পাগল--তা না হইলে, কাজ নাই কর্ম নাই, কেবল কচি খোকার মতো বুদ্ধ দ লইয়া খেলা—এ আবার কোন দেশী আমোদ ? বুড়ি তখন ব্যস্ত হইয়া থানায় গিয়া খবর দিল । , যে-লোকটি বুদ্ধ দ উড়াইত, পুলিশে তাহার খবর লইতে গিয়া দেখিল, তিনি আর কেহ নহেন, স্বয়ং সার আইজাক নিউটন—যাহার মতো অত বড়ো বিজ্ঞানবীর হাজার বৎসরে দুটি পাওয়া দুষ্কর ৷ বুদ্ধ দের গায়ে যে রামধনুর মতো জমকাল রঙ দেখা যায়, নিউটন তখন তাহার কারণ অনুসন্ধান করিতেছিলেন । নিউটনের পরেও ইয়ং প্রভৃতি বড়ো-বড়ো পণ্ডিতেরা এই অনুসন্ধান লইয়া বৎসরের পর বৎসর কাটাইয়াছেন, এবং তাহার ফলে, আলোক জিনিসটা যে কি, এ সম্বন্ধে মানুষের জ্ঞান অনেকটা পরিষ্কার হইয়া আসিয়াছে । মেঘের গায়ে রামধনুকের রঙ দেখিতে যে খুবই সুন্দর তাহাতে আর সন্দেহ কি ? দেখিলে সকলেরই মনে কৌতুহল জাগে । শুধু মেঘের গায়ে নয়, আলোকের রঙিন খেলা সফটক পাথর বা কাচের ঝাড়ে কেমন করিয়া ঝিকমিক করে, তাহা সকলেই দেখিয়াছি । কিন্তু আমাদের দেখায় আর পণ্ডিতের দেখায় অনেক তফাত । নিউটন সেই রঙের খেলাকে নানারকমে খেলাইয়া দেখিলেন, আসল ব্যাপারটা কি । তার পর এই একই ব্যাপারের সন্ধান করিয়া কত পণ্ডিত ষে কত নুতন তত্ত্ব বাহির করিলেন তাহার আর অন্ত নাই । কিন্তু আজও তাঁহাদের কৌতুহল মিটে নাই। বর্ণবীক্ষণ ( Spectroscope ) যন্ত্রে সূর্যের আলোক দেখায় যেন রামধনুকের ফিতা। সেই ফিতার মধ্যে রঙের মালা কেমন করিয়া সাজানো থাকে পণ্ডিতেরা হাজাররকম উপায়ে তাহার পরীক্ষা করিয়াছেন । এক-একরকম আলোর এক-একরকম রঙিন মালা। সূর্যের আলোক বর্ণবীক্ষণে পরীক্ষা করিয়া পণ্ডিতেরা বলিয়াছেন যে, সূর্যের ভিতরকার গোলকটা যেমন গরম তাহার বাইরের আঙনটা সেরকম গরম নয় । সূর্যের আলোর রঙিন ছটায় তাহারা এক-একটা চিহ্ন দেখেন আর মাপিয়া বলেন, “এটা লোহার জ্যোতি—এটা হাইড্রোজেনের আলো—এইটা গন্ধকের চিহ্ন, এইটা অঙ্গারের রেখা, এইটা ক্ষারের ধাতুর, এইটা চুনের ধাতুর—’ ইত্যাদি । তারার আলোর রামধনু ফলাইয়া তাহারা বলিতে পারেন, এই ԵyՀ • সুকুমার সমগ্র রচনাবলী ॥ ২