পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-দ্বিতীয় খন্ড.djvu/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তারাটা গ্যাসের পিণ্ড, এই তারাটা জমাট আগুন, এই তারাটা বাম্পে চাকা । এই-সমগ্ন সংকেত শিখিবার মূলে ঐ রামধনুক দেখিবার কৌতুহল । নিউ ফাউণ্ডল্যাণ্ডের সমুদ্রকুলে কতগুলা লোক প্রতিদিন ঘুড়ি উড়াইত, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়িয়া থাকিত । সেখানকার নাবিকেরা এই নিষ্কৰ্মা’ লোকেদের ছেলেখেঙ্গা দেখিয়া ঠাট্টা-তামাশা করিত। তাহারা জানিত না যে ঐ নিষ্কমার সর্দারটির নাম মার্কনি—সেই মার্কনি, যিনি বিনা তারে টেলিগ্রাফ পাঠাইবার কল বানাইয়াছেন । তারের সুতায় বাধা প্রকাণ্ড ঘুড়ি আকাশে উড়িত, আর একটা লোক সেই তারের সঙ্গে টেলিফোনের কল জুড়িয়া কান পাতিয়া পড়িয়া থাকিত । তার পর একদিন যখন সেই টেলিফোনের কলের মধ্যে টকটক শব্দ শোনা গেল, তখন সকলের আনন্দ দেখে কে ! তাহারা জানিত যে ঐ শব্দ আসিতেছে অতলান্তিক মহাসাগরের ওপার হইতে । এমনি করিয়া ইংলণ্ড হইতে আমেরিকায় বিনা তারে বিদ্যুতের খবর চলিতে আরম্ভ করিল। ইংলণ্ডের র্যাহারা নামজাদা পণ্ডিত, তাহাদের মধ্যে মাইকেল ফ্যারাডের নাম বিশেষ স্মরণীয়। এক দপ্তরীর পুরাতন বইয়ের দোকানে কাজ করিয়া ফ্যারাডে অবসরমতো দোকানের বইগুলা পড়িতেন । এমনি করিয়া তাহার মনে শিখিবার আগ্রহ জাগিয়াছিল । তার পর এক অজানা ভদ্রলোকের অনুগ্রহে বৈজ্ঞানিক বিষয়ে ভালো বক্ততা শুনিয়া তাহার কৌতুহল এমন প্রবল হইয়া উঠিল যে সেই কৌতুহল মিটাইতে গিয়া তিনি একজন অসাধারণ পণ্ডিত হইয়া উঠিলেন । বিদ্যুতের শক্তিতে কল চালাইবার সংকেত তিনিই আবিষ্কার করেন । বিদ্যুতের কল এখন পৃথিবীর সর্বত্রই চলিতেছে—বিদ্যুৎ ছাড়া সভ্যদেশের কাজ চলাই অসম্ভব । অথচ ফ্যারাডে যখন সর্বপ্রথমে একটি ছোটো চাকাকে বিদ্যুতের বলে ঘুরাইবার সংকেত দেখাইলেন, তখন অনেক লোকেই সেটাকে নেহাত একটা তামাশার জিনিসমাত্র মনে করিয়াছিল। কেহ কেহ ফ্যারাডেকে সম্পন্সটই জিজ্ঞাসা করিয়াছিল যে, এইরকমের খেলনা বানাইয়া তাহার মতো পণ্ডিত লোকের লাত্ত কি ? ফ্যারাডে হাসিয়া বলিতেন, “নতন একটা জ্ঞানলাভ করিলাম, ইহাই তো যথেস্ট লাভ । আর কোনো লাভ যদি নাও হয় তাহাতেই-বা দুঃখ কি ?” গ্রামোফোনের কথা জানে না, এমন শিক্ষিত লোক আজকাল পাওয়া কঠিন । কিন্তু শব্দকে যে যন্ত্রের সাহায্যে ধরিয়া রাখা যায়, এ কথাটা কিছুদিন আগে পর্যন্ত মানুষের কল্পনায় আসে নাই । এডিসন যখন ফোনোগ্রাফের আবিষ্কার করেন, তখন তাহার ভাবগতিক দেখিয়া তাহার কর্মচারীরা কেহ কেহ ভয় পাইয়াছিল। ঘরে মানুষ নাই, তিনি কেবল একটা চোঙার সঙ্গে কথা বলিতেছেন, তার পর চোঙার মুখে কান পাতিয়া কি যেন শুনিতেছেন—এইরকম ব্যাপার তাহারা সর্বদাই দেখিত । তার পর এডিসন যখন তাহাদের ডাকিয়া কলের আওয়াজ শুনাইলেন—তখন কলের মধ্যে বিকৃত গলায় মানুষের মতো শব্দ শুনিয়া তাহদের ভয়টা ঘোচে নাই কিন্তু এইটুকু তাহারা বুঝিয়াছিল যে ব্যাপারটা নেহাত পাগলের খেলা নয় । বিলাতের পিলুই ডাউন নামক স্থানে কতগুলা মজুর মাটি খুঁড়িতেছিল। মাটির মধ্যে মাঝে মাঝে পাথরের টুকরার মতো কি-সব জিনিস বাহির হইত, একজন সাহেব ब्लौक्नी 切や