বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-প্রথম খণ্ড.djvu/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কেবল। আ মোলো যা! এরা আমায় গাইতে দেবে না দেখছি, আমার ভালো-ভালো গানগুলো—

কেষ্টা ও ঘটিরামের প্রবেশ

ঘটিরাম। আমরা গান শুনতে এলুম।

কেষ্টা। কই রে, লোকজন সব কই? গাইবে কে? আপনি বুঝি?
কেবল। হ্যাঁ হ্যাঁ, তা এঁরা যখন নেহাত পেড়াপীড়ি কচ্ছেন তখন না গাইলে সেটা ভয়ঙ্কর খারাপ দেখাবে।

কেবলচাঁদ গুন গুন করিতে-করিতে সহসা সপ্তমে চিৎকার

খেঁটুরাম। রক্ষে কর দাদা, এ অত্যাচার কেন?
দুলিরাম। মশাই, এটা ‘ডেফ্ অ্যাণ্ড ডাম্‌ব্’ ইস্কুল নয়—আমাদের কানগুলো বেশ তাজা আছে।
কেবল। আজ্ঞে, সুরটা ঠিক আন্দাজ পাইনি—একটু চড়ে গিয়েছিল—না?

দুলিরাম। একটু বলে একটু?

খেঁটুরাম। রীতিমত তেড়ে এসেছিল।

কেবল। আচ্ছা, একটু নামিয়ে ধরি—

কেবলচাঁদের গান

আহা, পড়িয়া কালের ফেরে মোরা কি
হনু রে?
কোথায় ভীষ্ম কোথা দ্রোণ
কোথা কর্ণ ভীমার্জুন
কোথায় গেলেন যাজ্ঞবল্ক্য কোথায়-বা সে
মনু রে?
মাটির সঙ্গে মিশছে সবি
কেঁচোর মতো খাচ্ছে খাবি।
কেবল আপিস খাটি কচ্ছে মাটি নধরপুষ্ট
তনু রে—
ব্রাহ্মণের সে তেজ নাই
হ্যাঁ হ্যাঁ ব্রাহ্মণের সে—

কেবলচাঁদের মাথা চুলকানো

দুলিরাম। শিঙ নাই আর লেজ নাই—
কেবল। হ্যাঁ হ্যাঁ—

কেবলচাঁদের গান

ব্রাহ্মণের সে তেজ নাই
খাদ্যাখাদ্য ভেদ নাই
মনের দুঃখ কারে বলি মোরা কি হনু
রে—
আহা পড়িয়া কালের ফেরে মোরা কি
হনু রে।

খেঁটুরাম। দাঁড়ান একটু সামলে নি—অতো করুণ রস করবেন না।

খেঁটু ও দুলি ক্রন্দনোম্মুখ। কেষ্টা ও ঘটিরামের উচ্চহাস্য

খেঁটুরাম। তবে রে ছোকরা! তোরা হাসছিস কেন?
ঘটিরাম। বাঃ! হাসি পেলে হাসব না?
দুলিরাম। হাসি পাবে কেন? এখানে হাসবার কি হল?
খেঁটুরাম। ছ্যাবলামি পেয়েছিস? কথা নেই বার্তা নেই—হ্যাঃ-হ্যাঃ!
ঘটিরাম। কি রে কেষ্টা, হাসি পেলে হাসব না?
কেষ্টা। এই রে, পণ্ডিতমশাই আসছে—
ঘটিরাম ও কেষ্টা। এই রেঃ, এই রেঃ, এই রেঃ, পণ্ডিতমশাই আসছে—মাটিং চকার—তোর র‍্যাপারটা দে তো।

ঘটিরাম ও কেষ্টার র‍্যাপার মুড়ি হইয়া উপবেশন।

পণ্ডিতের প্রবেশ

পণ্ডিত। ভালো, ভালো! তোমরা মধ্যেমধ্যে বিশ্রাম নিতে পার না? নিত্যিনিত্যি জমিদারমশাইকে বিরক্ত করাটা কি ভালো দেখায়?—ইকী! ক্যাবলাটা এখানে এয়েছে কি করতে? (দুলিরাম ও খেঁটুরামের প্রতি) আমোলা যা! তোমাদের যত রাজ্যের ইয়ার-বকশী সব বুঝি জোটাচ্ছ একে-একে?
সু.স. র.—২৯
২২৫