বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:সুকুমার রায় রচনাবলী-প্রথম খণ্ড.djvu/২৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কেবল। দেখলেন মশায়? আমাকে অপমান কললে। আমায় ইয়ার-বকশী বললে, অমন কললে কিন্তু আমি গাইব না।
পণ্ডিত। তা নাই-বা গাইলে—কে তোমাকে মাথার দিব্যি দিচ্ছে? যা না গান! গানের ধমকে আমাদের পযন্ত পিলে চমকে ওঠে—তা, অন্যে পরে কা কথা!

ছাতা ও বিশাল পুঁটলি লইয়া রামকানাইয়ের প্রবেশ

রামকানাই। (ঘটিরাম ও কেষ্টার প্রতি) আপনাদের কি হয়েছে? অমন করে বসে আছেন যে? কাশি? জ্বর? ন্যাড়া মাথা? ঠাণ্ডা লাগবে বলে?
পণ্ডিত। (ঘটিরাম ও কেষ্টার প্রতি) কি হে, এখানে এসে হাজির হয়েছ? আচ্ছা বেরিয়ে নাও তারপর—

রামকানাই কর্তৃক পণ্ডিতস্কন্ধে পুঁটলি স্থাপন

তুমি কি রকম মানুষ হে?

রামকানাই। কেন? বেশ দিব্যি মানুষটি।

পণ্ডিত। বলি চোখ দিয়ে দেখতে পাও না কি?
রামকানাই। চোখ দিয়ে দেখতে পাই না তো কি কান দিয়ে দেখতে পাই?
পণ্ডিত। না হে, তুমি বড় বাচাল—শাস্ত্রে বলেছে—
রামকানাই। না—শাস্ত্রে আমার সম্বন্ধে কিছু বলে নি—
পণ্ডিত। আহা, বলি, তোমায় তো কেউ এখেনে ডাকে নি?
রামকানাই। ডাকবে আবার কি? এ কি নিলেমের মাল পেয়েছ যে ডাকাডাকি করবে?
পণ্ডিত। হ্যাঁ, তবে অমন করে বসে থাকলে তো ভালো দেখায় না।
রামকানাই। ভালো দেখায় না কি হে? তোমাকে যে অশথগাছের মামদো ভূতের মতো দেখা যায়, সে বেলা কি?
পণ্ডিত। আহা, বলি, যদি কিছু বলবার
থাকে, তা ঝটপট বলে বাড়ি যাও-না কেন?
রামকানাই। হ্যাঁ, তাহলে তুমিও আমার পুঁটলিটা সরাবার সুবিধা পাও।
পণ্ডিত। কি আপদ! বলি পুঁটলিটা রেখে যেতে বললে কে? নিয়েই যাও-না কেন?
রামকানাই। মুটের পয়সা দেবে কে?
পণ্ডিত। হাঃ—মুটের পয়সা দেবে কে? মুটের পয়সা দেবে!
রামকানাই। উঃ! দূৎ! তোমার ময়লা চাদরটা আমার নাকের কাছে নেড়ো না।

জমিদারের প্রবেশ

খেঁটুরাম। সর সর, জমিদারমশাই আসছেন।

দুলিরাম। হ্যাঁ, হ্যাঁ, সর, সর।

জমিদার। কি রে! রামা কখন এলি? বেশ, বেশ, ভালো আছিস তো?
রামকানাই। (প্রণাম করিয়া) আজ্ঞে এই মাত্র আসছি—
পণ্ডিত। আপনার এই লোকটা ভারি উদ্ধতস্বভাব—কথা বলে যেন তেড়ে মারতে আসে।
জমিদার। ওরে রামা! বাবুদের কিছু বলিস টলিস নে।

রামকানাই। যে আজ্ঞে।

জমিদার। ও আমার বহুকেলে পুরোনো চাকর কিনা—কারুর কথা-টথা বড় শোনে না। তবে লোকটা ভালো—দেশে গিছিল, আজ বহুকাল পরে এল।
খেঁটুরাম। ইনি হচ্ছেন কেবলচাদ ওস্তাদ—

দুলিরাম। মস্ত গাইয়ে।

খেঁটুরাম। আশ্চর্য! যত ওস্তাদ এসেছিল, ওঁর চেহারা দেখেই দে চম্পট।
দুলিরাম। তা হবে না? এঁরই গান শুনে আমাদের নবাবসাহেব মুর্ছা গেছিলেন, এঁরই গান শুনবার জন্য কিষাণবাবু তেতাল্লিশ মাইল পথ হেঁটে গেছিলেন—
খেঁটুরাম। একে সভায় রাখতে কত রাজা বাদশা হদ্দ হল।

দুলিরাম। কত টাকাকড়ির শ্রাদ্ধ হল।

২২৬
সুকুমার সমগ্র রচনাবলী