রামকানাই। আমি বাজাতে পারি—দাও তো পাখওয়াজটা—ধত্তেরে কেটে তাগ ঘ্ড়ান্ ঘ্ড়ান্ নাগে নাগে নাগে নাগে—নাগে দেৎ ঘেঘে তেটে ঘেঘে তেটে ঘেঘে তেটে কই! গান আসছে না বুঝি?
পণ্ডিত। ইকী! চাকরটা এরকম করে কেন?
জমিদার। পুরোনো লোক কিনা! রামা তুই এখন চুপ কর—বাবুদের বাধা দিস নে।
রামকানাই। যে আজ্ঞে!
তানানা তাইরে নারে—তারে না তাইরে
নারে—তারে না তাইরে নাইরে—না-তানা-
ন্না—
রামকানাই। এই যা! তাল কেটে গেল!
কেবল। আর কেন? থামো না বাপ!
রামকানাই। কেন মশাই? থামব কেন? নাগেদেৎ ঘেঘেতেটে ঘেঘে তেটে ঘেড়ে নাগ তেরে কেটে দেৎ—দ্রেগে দ্রেগে দ্রেগে—
পণ্ডিত। ওহে, জমিদারমশায়ের সামনে অমন করতে নেই—আমাদের ন্যায়শাস্ত্রে বলেছে—ণত্বমিচ্ছন্তি বর্বরাঃ—বুঝলে কিনা।
জমিদার। রামা, তুই একটু কাজে যা—পুরোনো মানুষ কিনা!
দুলিরাম। হ্যাঁ, ওস্তাদজি—ঐ যে গাইলেন ওটা কি তাল বলছিলেন?
কেবল। ওটা—ওটা হচ্ছে মাদ্রাজী একতালা।
খেঁটুরাম। সবে একতালা? আহা, যখন চৌতালায় উঠবে—তখন না জানি কেমন হবে!
রামকানাই। তখন সব কানে তালা লেগে যাবে।
পণ্ডিত। হ্যাঁ ওস্তাদজি, তাহলে আপনার গানটা শিগগির শেষ করে ফেলুন—আহা অতি উচ্চাঙ্গের সংগীত!
রামকানাই। ভারি উচ্চাঙ্গ! সেই আমাদের একজন যা ইমনকল্যাণের আলাপ করেছিল—সেটা পুরোপরি শিখতে পারি নি। যেটকু শিখেছি শুনবেন? আ—আ—আ—
কেউ কেউ কেউ।
জমিদার। রামা!
রামকানাই। যে আজ্ঞে।
[ রামকানাইয়ের দ্বার পর্যন্ত প্রস্থান
কেবল। হায় রে সোনার ভারত—
ঘটিরাম। হাসিয়ে দিলি যে?
কেষ্টা। হাসিয়ে দিচ্ছিস কেন রে?
ঘটিরাম। তুই তো আগে হাসছিলি—
কেষ্টা। যাঃ! আমি কখন হাসলাম—
কেবল। দেখলেন মশায়! গম্ভীর বিষয়, এর মধ্যে কি কাণ্ডটা কললে!
খেঁটুরাম। রামা! একে সটাং রাস্তা পার করে দিয়ে আয় তো—
রামকানাই। (ওস্তাদকে ধরিয়া) একে?
[ ঘটিরাম ও কেষ্টার প্রস্থান
কেবল। এইও, ইস্টুপিট বেয়াদোব, ভদ্রলোকের গায়ে হাত তুলিস্!
পণ্ডিত। ইকী! ইকী! কাকস্য পরিবেদনা, গতস্য শোচনা নাস্তিক!
জমিদার। রামা, তুই একটু কাজে যা দেখি—তুই আমার নাম ডোবাবি দেখছি।
[ রামকানাইয়ের প্রস্থান
কেবলচাঁদের আবার গান আরম্ভ
কেবল।
হায় রে সোনার ভারত দুর্দশাগ্রস্ত হইল
অবসাদ হিমে ডুবিয়ে ডুবিয়ে ধুলোয়
পতিত রইল
যে দেশের শ্রেষ্ঠতার এত সব ভূরি ভূরি
প্রমাণ বর্তমান
আজকাল তাকেই কিনা—সব অবজ্ঞা
করিতেছে—
এবং দেখাচ্ছে সবাই মর্তমান
কোথা সেই তিরিশ কোটি আটানব্বই
লক্ষ