এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
সাড়ে চোদ্দ হাজার মাতৃভক্ত ভারত
সন্তান
সহ্য হবে না হবে না তাদের হৃদয়ে
সবাই জাগো জাগো উঠে পড়ে লাগো
দেশোদ্ধারে ব্রতী হও হে!
দুলিরাম। এই! সিডিশাস্!
পণ্ডিত। অ্যাঁ, কি বললে? রাজদ্রোহসূচক? অ্যাাঁ?
খেঁটুরাম। তবে রে! সিডিশাস্ গান কচ্ছিস কেন রে?
দুলিরাম। জানিস, আমার মামাতো ভাই গবর্মেণ্টের চাকরি করে।
খেঁটুরাম। হ্যাঁরে, ওর মামাতো ভাইয়ের চাকরি ঘোচাবি কেন রে?
কেবল। আমি তো জানতুম নে—আমি তো জানতুম নে—
পণ্ডিত। জানতি নে কিরে? কেন জানতি নে?
পণ্ডিতের কেবলচাঁদকে প্রহার
কেবল। কী! মারলি কেন রে? ফের মার দেখি!
উঃ! এত জোরে মারলি কেন রে ইস্টুপিট! দাঁড়া দেখাচ্ছি—
পণ্ডিতের কেবলচাঁদকে পুনঃপ্রহার
এবার মারবি তো একেবারে—
পণ্ডিতের কেবলচাঁদকে পুনঃপ্রহার
[ কেবলচাঁদের পলায়ন
পণ্ডিত। যা না গাইলেন! গলা শুনলে ছত্রিশ রাগিণী ছাটে পালায়।
দুলিরাম। ওর পেটের মধ্যে ডুবুরি নামালে, গানের ‘গ’টা মেলে কিনা সন্দেহ!
পণ্ডিত। তোমরা কোত্থেকে এ-সব আপদ জোটাও হে? জমিদারমশায়ের খ্যাতি প্রতিপত্তির দিকে কি তোমাদের একটু ও দৃষ্টি নেই?
খেঁটুরাম। এই দুলিরামটাই তো যত নষ্টের গোড়া, যত রাজ্যের অঘামারা রোথো লোক
ডেকে আনবে!
দুলিরাম। বিলক্ষণ। আমি ডেকে আনলাম? আমার সাতজন্মে ওর সঙ্গে আলাপ নেই।
খেঁটুরাম। এত করে বারণ কল্লুম, তবু ডেকে আনলে!
দুলিরাম। না, মশাই! ও নিজে ডেকে এনেছে আমি আদবে কিছু জানি নে!
পণ্ডিত। জানো না তো জানো না—তা অত গরম হবার দরকার কি? আমাদের ন্যায়শাস্ত্রে বলেছে—উষ্ণত্বমগ্ন্যাতপসং-প্রয়োগাৎ—
জমিদার। এবারে গরমটা কেমন টের পাচ্ছ বল দেখি—
খেঁটুরাম। আঃ! গরম বলে গরম! আগুন লাগে কোথা! উঃ!
দুলিরাম। আমাদের বেড়ালটা সর্দি-গর্মি হয়ে মারা গেছে—
জমিদার। এ-সব বোধ হয় সেই ধূমকেতুর জন্যে—
পণ্ডিত। হ্যাঁ, সিদিন আমাদের ওখেনে ধূমকেতুর ন্যাজ দেখা গিছিল—
দুলিরাম। কার ন্যাজ কে জানে?
খেঁটুরাম। ওঁরই ন্যাজ হয়তো।
জমিদার। ধমকেতুটা এসে কি কাণ্ডই কল্ল? ঝড়, বৃষ্টি, ভূমিকম্প—
খেঁটুরাম। প্লেগ, দুর্ভিক্ষ, বেরিবেরি—
দুলিরাম। পানের পোকা, এলাহাবাদ একজিবিশান!
পণ্ডিত। আমি শুনেছি ঐ পানের পোকার খবরটা নাকি সত্যি নয়!
খেঁটুরাম। আলবাৎ সত্যি! নন্দলাল ডাক্তার স্বচক্ষে দেখেছে লোকে পান খাচ্ছে আর মরছে!
জমিদার। ঈস্! বল কি হে? তাহলে তো কাথাটা সত্যি বলতে হবে।
পণ্ডিত। হ্যাঁ—দূরবীন দিয়ে সে পোকা দেখা গেছে—
খেঁটুরাম। কলকেতার সায়েব ডাক্তার বলেছে তার ভয়ঙ্কর তেজাল বিষ।
নাটক
২২৯