পাতা:সেকালের কলকাতার ধর্মীয় চিত্র - ইন্দ্রজিৎ দাস.pdf/১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সেকালের কলকাতার ধর্মীয় চিত্র


ই ন্দ্র জি ত দা স

জোব্‌ চার্নকের কলকাতায় পদার্পণের পূর্বেই যে এখানে মানুষের বসতি ছিল তা আর আলোচ্য বিষয় নয়। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ও অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকেই ইউরোপীয়রা আসতে শুরু করেছিল কলকাতাতে। সেই সময়, তিনটি গ্রামে কলিকাতা, সুতানুটি ও গোবিন্দপুরে হিন্দু ধর্মের মানুষের বসতি তো ছিলই এবং এদের পরেই বেশ এক বড় সংখ্যক মুসলমান মানুষও বসবাস করতে শুরু করেছিল। আসলে, ব্যবসা-বাণিজ্যের বা আরও অন্যান্য পেশার টানে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে বা তাদের অনুসরণ করে, বিশেষতঃ গঙ্গার তীরবর্তী এই জায়গার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল অনেকেই। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর দিক থেকেই ব্রিটিশদের সঙ্গে বা বলা যেতে পারে খ্রিস্টানদের সঙ্গে পরবর্তীকালে ইহুদী, পার্সি, চীনা ও আরও অনেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের বসতি গড়ে উঠেছিল এই খোদ কলকাতায়। স্বভাবতই গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন ধর্মীয় প্রার্থনাগৃহ। কলকাতাতে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য উপাদানের মধ্যে এই ধর্মীয় স্থাপত্যগুলির গুরুত্ব অপরিসীম।

 কলকাতার চিৎপুরে খগেন চ্যাটার্জি স্ট্রীটে অবস্থিত চিত্তেশ্বরী মন্দিরই কলকাতার সর্বপ্রাচীন মন্দির। কথিত আছে, তদানীন্তন কুখ্যাত চিতে ডাকাত এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর দেবী দুর্গার বিগ্রহ পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ১৬৯০ সালে জোব চার্ণকের কলকাতায় আসার ৫০ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে, মনোহর ঘোষ বর্তমান মন্দিরটি স্থাপন করেন। ও বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার কালনির্ণয় নিয়ে মতভেদ আছে, কারণ কোথাও ১৫৮৩, কোথাও ১৫৮৬, আবার কোথাও ১৬১০ এই তিনটি সালের উল্লেখ পাওয়া যায়। মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবী চিত্তেশ্বরী দুর্গা অধিষ্ঠান করছেন।

 কালীঘাটের কালী মন্দির যা সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের সময় থেকে সামান্য এগিয়ে, কলকাতার মুসলমানদের অবস্থান বা তাদের মসজিদ প্রসঙ্গে আসি, তাহলে ঐ চিৎপুরেই অবস্থিত ভোসড়ি শাহ্‌র মসজিদের কথা বিশেষ করে বলা প্রয়োজন। কাশীপুর চিৎপুর অঞ্চলের, শেঠপুকুর রোডে, ভোসড়ি শাহ্‌ বা মতান্তরে বসরি শাহ্‌, স্থানীয়ভাবে ঊষা মসজিদ নামে পরিচিত, সম্ভবত কলকাতার সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ। এই মসজিদের পাশেই ভোসড়ি শাহ্‌ পীরের মাজার আছে। বহুদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর, কয়েক বছর আগে এটিকে মেরামত করা হয়েছে। একসময় এখানে একটি শ্বেতপাথরের ফলক ছিল, যাতে মসজিদটি যে ১৭৯৯ খ্রিঃ

ভ্রমণআড্ডা • ঊনবিংশ সংকলন ২০১৬ • ৭৯