পাতা:সেকালের কলকাতার ধর্মীয় চিত্র - ইন্দ্রজিৎ দাস.pdf/৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 অন্যদিকে, কলকাতার মুরগিহাটায় রোমান ক্যাথলিকদের প্রধান গির্জা অর্থাৎ পর্তুগীজ চার্চ, যার পুরোনো নাম ‘দ্য ক্যাথিড্রাল অফ দ্য হোলি রজারি’ এবং যার বর্তমান নাম ‘ক্যাথিড্রাল অফ দ্য মোস্ট হোলি রজারি’, পর্তুগীজরা তৈরি করেন ১৭৪৭ সালে। আগেই উল্লেখ করেছি পর্তুগীজরা অনেক আগেই বাংলায় এসেছিল এবং বাংলার প্রথম গির্জা তাদেরই তৈরি। পরবর্তীকালে, তারা কলকাতায় আসে এবং বলা হয় বর্তমানে এই গির্জার জায়গায় তারা ১৭০০ সালে একটি চ্যাপেল তৈরি করেছিল। সেটি নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তারপর তারা বর্তমান গির্জাটি তৈরি করে। প্রসঙ্গত, এই চার্চের লাগোয়া কবরখানায় দুটি গ্রীক কবরের উপরে স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে যাতে ১৭১৩ এবং ১৭২৮ সালের উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও, প্রথম গ্রীক যিনি কলকাতায় আসেন বলে ধরা হয়, তিনি আলেক্সন্ডার আরগীরি বা হাজী আলেক্সিও আরগাইরী, তিনি ১৭৫০ সালে বাংলায় আসেন। ১৭৭৭ সালে ঢাকাতে তার মৃত্যুর পর, তার শেষইচ্ছা অনুসারে কলকাতায় এই পর্তুগীজ চার্চের কাছে আমড়াতলায় ১৭৮০ সালে গ্রীক অর্থোডক্স চার্চ তৈরি শুরু হয়। ৬ই অগাস্ট ১৭৮১ সালে এই চার্চ নিয়মিত প্রার্থনার জন্য খুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ১৯২৪ সালে এই চার্চ উঠে আসে কালীঘাটের কালীমন্দিরের কাছে, বর্তমানে যে গ্রীক চার্চটি আমরা দেখি সেখানে। কিন্তু পুরনো আমড়াতলার গ্রীক অর্থোডক্স চার্চের কোন অস্তিত্ব আজ আর নেই। আলেক্সান্ডার আরগীরির কবরটি রয়েছে কলকাতার ফুলবাগানে গ্রীক কবরখানায় এবং এই কবরখানার মধ্যে একটি ছোট চ্যাপেলও রয়েছে।

 এটা তো গেলো খ্রিস্টানদের গির্জার কথা। এবার নজর ফেরান যাক ইহুদীদের প্রতি। প্রথম ইহুদী, যিনি কলকাতায় এসেছিলেন তিনি শালম্‌ আহারন অবাদিয়াহ্‌ কহেন্‌। তিনি সুদূর অ্যালেপ্পো বর্তমানে সিরিয়া থেকে ১৭৯২ সালে ভারতে এবং পরবর্তীকালে ১৭৯৮ সালে কলকাতায় আসেন। ইহুদীদের প্রার্থনাগৃহকে সিনাগগ্‌ বলা হয়। ১৮৩১ সালে কলকাতার প্রথম সিনাগগ্‌ ‘নভেহ্‌ শালম্‌’ তৈরি করেন শালম্‌ কহেন্‌ এবং এটি ১৮৮৪ সাল অব্দি ওখানেই ছিল। সেইসময়, ইহুদীদের সম্প্রদায় থেকে ইলিয়াস ডেভিস জোসেফ ওজরা কলকাতার শেরিফ নির্বাচিত হন। তাঁর উদ্যোগে ১৮৮৪ সালে ‘নভেহ শালম’ এর জায়গায় সুবিশাল ‘ম্যাগেন ডেভিড সিনাগগ’ তৈরি করা হয়। অবশ্য, ১৯১০ সালে ইহুদী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে নতুন করে ম্যাগেন ডেভিড সিনাগগের পাশে ‘নভেহ শালম’ পুনর্নির্মিত হয়। কলকাতার যে সিনাগগ্‌টি সবচেয়ে পুরনো এবং বর্তমান, সেটি ‘বেথ্‌-এল’। এটি ১৮৫৬ সালে তৈরি হয়েছিল। কলকাতায় সর্বমোট পাঁচটি সিনাগগ ইহুদীরা তৈরি করেছিল। যার মধ্যে তিনটি বর্তমান এবং বাকি দুটির কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৩৩ সালে ওল্ড চীনাবাজার অঞ্চলে, ২৫ ব্ল্যাক বার্ন লেনে তৈরি হয় ‘ম্যাগেন আবথ্‌’, এটি নির্মাণ করেন ‘এ লেভরয়’। বর্তমানে যে শ্বেতপাথরের ফলকটি সেখানে আছে তাতে নির্মাণ সাল ১৯৪০ লেখা। কিন্তু ১৯৮৪ সালে ইহুদী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান দ্বারা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এটির নির্মাণ হয় ১৯৩৩ সালে। বর্তমানে ‘ম্যাগেন আবথ্‌’ এর কোন অস্তিত্ব নেই। ফ্রী-স্কুল স্ট্রীট ও সাদার স্ত্রীটের সংযোগস্থলে ১৮৯৭ সালে ‘শহ্‌রে রাসূন’ সিনাগগ্‌ তৈরি হয়। বর্তমানে হল ঘরটি থাকলেও, সিনাগগের কোন চিহ্নই নেই সেখানে।

 পার্সি সম্প্রদায় অগ্নির উপাসক, ফায়ার টেম্পল তাঁদের প্রার্থনাগৃহ। তাদের ধর্ম যর্‌য়াস্টিয়ান

ভ্রমণআড্ডা • উনবিংশ সংকলন ২০১৬ • ৮১