পাতা:সেকালের কলকাতার ধর্মীয় চিত্র - ইন্দ্রজিৎ দাস.pdf/৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 সম্ভবত ভারতীয় ধর্মগুলির মধ্যে জৈনরাই প্রথম কলকাতায় এসেছিল। তারা কলকাতার বেলগাছিয়ায় ১৭৮৭ সালে, ২৬ বিঘা জমির ওপর ‘শ্রী পার্শ্বনাথ দিগম্বর জৈন’ মন্দির স্থাপন করে যেটি কলকাতার সর্বপ্রাচীন এবং প্রথম জৈন মন্দির। কলকাতায় দিগম্বর জৈনদের আরও কিছু মন্দির রয়েছে যেমন, ১৮০৫ সালে তৈরি ব্রজদুলাল স্ট্রীটে ‘পুরোনো দিগম্বর জৈন’ মন্দির, ১৯০৪ সালে তৈরি রবীন্দ্র সরণীতে ‘নতুন দিগম্বর জৈন’ মন্দির, দ্বিতীয়টি তীর্থঙ্কর আদিনাথ জী কে উৎসর্গ করা। ১৮৯৫ সালে তৈরি কলকাতার বদ্রীদাস টেম্পল স্ট্রীটের ‘শ্রী শ্রী চন্দ্রপ্রভুজী’ মন্দির যা তীর্থঙ্কর চন্দ্রপ্রভুজীকে উৎসর্গ করা। এটি সম্পূর্ণ শ্বেতপাথরের তৈরি একটি অসাধারণ স্থাপত্য। এর ঠিক পাশেই রয়েছে ‘শ্রী শ্রী শীতলনাথ স্বামী গার্ডেন’ মন্দির, মন্দিরটি ১৮৬৭ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হীরে জহরত ব্যবসায়ী রায়বাহাদুর শ্রী বদ্রীনাথ মুকিম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপাশেই ‘শ্রী শ্রী মহাবীর স্বামী’ মন্দির যা ১৮৬৮ সালে তৈরি। এটি ২৪ তম তীর্থঙ্কর মহাবীর স্বামী কে উৎসর্গ করা হয়েছে। কলকাতার প্রথম শ্বেতাম্বর জৈন মন্দির ‘দাদাজী’ মন্দির। এটি তৈরি হয় ১৮১০ সালে, এটিও বদ্রীদাস টেম্পল্‌ স্ট্রীটে অবস্থিত। বড়বাজারের কটন স্ট্রীটে ‘শ্বেতাম্বর পঞ্চায়েত সতীনাথ জৈন’ শ্বেতাম্বরদের আরেকটি মন্দির, এর নির্মাণ সাল ১৮১৪।

 রাজা রামমোহন রায়কে বলা হয় তিনি প্রথম ভারতীয় যিনি ভারতীয় সমাজকে মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষ থেকে বার করে আনতে চেয়েছিলেন। তাই শ্রদ্ধেয় রাজা রামমোহন রায়কে ‘আধুনিক ভারতের জনক’, ‘ভারতের নবজাগরণের জনক’ বা ‘ভূত ও ভবিষ্যতের সেতু’, বলে অভিহিত করা হয়। ১৮১৫ সালে কলকাতার মানিকতলায় তিনি একটি বাড়ি কেনেন, সেখানে ‘আত্মীয় সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে ২০ই অগাস্ট ১৮২৮ সালে কমল বসুর বাড়িতে ‘ব্রাহ্ম সমাজের ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২৩শে জানুয়ারী ১৮৩০ সালে, কলকাতার চিৎপুরে প্রথম ব্রাহ্ম সমাজের উপাসনালয় তৈরি হয়। পরের দিকে অর্থাৎ ১৮৬৬ সাল নাগাদ কেশব চন্দ্র সেনের বিভেদ এবং ব্রাহ্ম সমাজের বিভক্ত হওয়া সর্বজনবিদিত। ২২শে অগাস্ট ১৮৬৯ সালে কেশব চন্দ্র সেন বর্তমান কলকাতার কেশব সেন স্ট্রীটে তাঁর চিন্তাধারার ‘ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ’ এর। মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে একটি ঠাকুর দালান বানিয়েছিলেন। তার পুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ২২শে ডিসেম্বর ১৮৪৩ সালে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন এবং ঠাকুর বাড়ির সেই ঠাকুর দালানটিকে ব্রাহ্ম ধর্মের উপাসনাগৃহে রূপান্তরিত করেন। কলকাতায় আরও কিছু সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের প্রার্থনাগৃহ এবং দেবালয় রয়েছে।

 মূলশঙ্কর, যিনি দয়ানন্দ সরস্বতী নামে অধিক পরিচিত, তিনি ১৮৭৫ সালে বোম্বাই শহরে আর্যসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। দয়ানন্দ সরস্বতীর কলকাতার ঠাকুর পরিবারের সাথে বিশেষ পরিচিতি ছিল, সেই সূত্রে ১৮৭২ সালে তিনি কলকাতায় আসেন। ১৮৮৫ সালে কলকাতার বড়বাজারের তুলা পট্টিতে এক গুদামঘরে কলকাতার প্রথম আর্যসমাজের মন্দির স্থাপিত হয়। বর্তমান যে মন্দিরটি আমরা সেখানে দেখতে পাই সেটি ১৯০৭ সালে জায়গাটি কিনে নিয়ে পাকাপাকিভাবে স্থাপিত।

 ঐতিহাসিক দিক থেকে শিখধর্মাবলম্বীদের কাছে কলকাতার গুরুত্ব অপরিসীম। গুরু নানক

ভ্রমণআড্ডা • উনবিংশ সংকলন ২০১৬ • ৮৩