পাতা:সেকালের কলকাতার ধর্মীয় চিত্র - ইন্দ্রজিৎ দাস.pdf/৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দেব যিনি শিখধর্মের প্রবক্তা ও প্রথম গুরু, তিনি ১৫১০ সালে জলপথে পুরী ভ্রমণকালে কিছুদিন কলকাতায় অবস্থান এবং স্থানীয় মানুষদের নিয়ে সঙ্গতেরও আয়োজন করেছিলেন। তাই কলকাতা এই ধর্মাবলম্বীদের কাছে খুবই পবিত্রস্থান। কলকাতার হ্যারিসন রোডে ‘বড়ে সঙ্গত গুরুদ্বারা’ কলকাতার সর্ববৃহৎ এবং প্রথম গুরুদ্বারা। শিখধর্মের ১০ জনের মধ্যে নবম গুরু হলেন গুরু তেগ বাহাদুর। উনি ১৬৬০ সালে অসম যাওয়ার পথে কলকাতায় আসেন এবং বাগমারিতে স্থানীয় মানুষদের নিয়ে সঙ্গতেরও আয়োজন করেন। বাগমারিতে একটি গুরুদ্বারা আছে যেটি এই ধর্মাবলম্বীদের এবং ঐতিহাসিকদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিখধর্মের মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গেই কলকাতায় আরও কিছু গুরুদ্বারা তৈরি হয়েছে, যেমন, ১৯৩৬ সালে কলকাতার রাসবিহারী রোডে ‘জগৎ শুধার গুরুদ্বার’ ১৯৫৭ সালে হরিশ মুখার্জি রোডে ‘সন্ত কুঠিয়া। এছাড়া আরও কয়েকটি গুরুদ্বারা কলকাতায় রয়েছে।

 আকাশপথে যদি কলকাতাকে দেখা হয় তবে দেখা যাবে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বারার চুড়াগুলির সহাবস্থান। আক্ষরিক অর্থে কলকাতা সত্যিই এক যৌগিক সংস্কৃতির মহানগর, যার তুলনা পৃথিবীতে মেলা ভার। যেখানে, হিন্দু গির্জা তৈরির জন্য জমি দান করেন, পার্সি শিব মন্দির তৈরি করেন, মুসলমান দুর্গা পুজো করেন। এরকম অনেক নজির সৃষ্টি করেছে শহর কলকাতা। প্রকৃত অর্থে ‘বৈচিত্রের মধ্যে একতা’ কথাটির যথার্থ ও জ্বলন্ত প্রমাণ এই শহর।

ভ্রমণআড্ডা • উনবিংশ সংকলন ২০১৭ • ৮৪