বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:সেকাল আর একাল.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

[ १० ] আন্তরিক বদান্যতা নহে। পূৰ্ব্বকার বদন্যতা আড়ম্বরশুন্য ছিল ; এক্ষণকার বদান্যতা সাড়ম্বর । এখনও পল্লিগ্রামে অনেক আড়ম্বরশুন্য বদান্যতার কার্য হইয়া থাকে , তাহ সাহেবদের গোচর হয় না । তাহারা অনুমান করেন যে বাঙ্গালীদিগের বদান্যতা নাই । যাহা হউক, গড়ে একালে স্বার্থপরতার অতিশয় বৃদ্ধি হইতেছে সন্দেহ নাই । বর্তমান সভ্যতার অপর নাম স্বার্থপরতা বলিলে অত্যুক্তি হয় না । পূৰ্ব্বে যে ব্যক্তি পোনের টাকা মাসে উপার্জন করিত, সে আট টাকা পরিবার প্রতিপালনে ব্যয় করিয়া বাকি সাত টাকা পরোপকারে ব্যয় করিতে সক্ষম হইত, এক্ষণে সেই সাত টাকা সভ্যতার অনুরোধে বিলাসের দ্রব্যে ব্যয় করিতে বাধ্য হয় । কৃতজ্ঞতাধর্মেও এক্ষণকার লোকদিগকে পূৰ্ব্বকার লোক অপেক্ষা হীন দেখা যায়। পূর্বকার লোকে যেমন সরলতা পূর্বক উপকার স্বীকার করিতেন, এক্ষণকার লোকে সেরূপ করে না । স্বকীয় গৌরব নাশের আশঙ্কায় তাহারা তাহা গোপন করিতে চেষ্টা করে । এক্ষণকার একজন সুবিখ্যাত ব্যক্তি বলেন, যে তিনি যাহার যত উপকার করিয়াছেন, তিনি তাহা হইতে তত অনিষ্ট প্রাপ্ত হইয়াছেন ; এক্ষণে তিনি স্বদেশীয় ব্যক্তিদিগের উপর একবারে এমনি চটিয়া গিয়াছেন যে, কাহারও উপকার করিতে ইচ্ছক নহেন । এরূপ চটিয়া বসিয়া থাকা অন্যায় কিন্তু এরূপ চটবার বিশেষ কারণ অাছে, তাহাও অস্বীকার করা যাইতে পারে না ! * আমরা যে বিখ্যাত ব্যক্তির কথা বলিতেছি, তিনি বস্তুতঃ চটিয়া বসিয়া থাকেন না, তাহার হৃদয় তাহাকে চটিয়া থাকিতে দেয় না ।