..[ . . ] এক্ষণে মুখপ্রিয়তা, বিলাসপরায়ণতা ও বাবুগিরির অত্যন্ত প্রাদুর্ভাব হইয়াছে । এমন শুনাগিয়াছে, পূৰ্ব্বকালের কোন দেওয়ান নৌকা হইতে উঠিয়া বাড়ী যাইবেন ; যেখানে নৌকা হইতে নামিলেন, সেখান হইতে র্তাহার বাট ১০ । ১২ ক্রোশ দূর । পালক আসিয়া পৌঁছে নাই ; তিনি হাটিয়াই চলিয়াই গেলেন । এখন ছুপা হাটিতে হইলে সম্পন্ন লোকে বিপদ জ্ঞান করে । সেতুবন্ধ রামেশ্বরের লোকেরা বুীবকে “জবড়জঙ্গ ” বলিয়া ডাকে ; বাবুর এমন উপ যুক্ত আখ্যা আর কোন খানে শুনি নাই । দেওয়ান বাটীতে গিয়া দেখিলেন র্তাহার ভ্রাতৃবধুর প্রসববেদন উপস্থিত হইয়াছে ; স্থতিক গৃহের জন্য কাষ্ঠ চাই । কিন্তু দেখেন ভূত্যের কোন কারণ বশতঃ কেহ উপস্থিত নাই ; কি করেন, নিজেই কাঠ চেলা করিতে আরম্ভ করিলেন 1 এক্ষণকার লোকে এরূপ শারীরিক পরিশ্রম করিতে অত্যন্ত বিমুখ ৷ এখন লেখাপড়া শিখিলেই কেবল বাবু হইবার চেষ্টা । কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নিকট শুনিয়াছি, তিনি স্বীয় গ্রামের ক্লযকদিগের নিমিত্ত রাজনিক বিদ্যালয় স্থাপন করিয়াছিলেন, কিন্তু দেখিলেন, তাহাতে উল্টা ফল উৎপত্তি হইতে লাগিল । ছেলের পিতারা সকলে বলিতে লাগিল, “মহাশয়! আমার ছেলেকে আর পড়িতে দেওয়া হবে না । অামাদের বাপ পিতামহের প্রথা চাসবাস করা, ছেলেরা তাহাতে সাহায্য করিয়া থাকে। এখন স্কুলে দেওয়া অবধি আমার ছেলে এমনি বাবু হয়ে পড়েছে যে, কেবল মোজা আর ইংরাজী জুতা পরিবার জন্য ব্যগ্র; অামার কোন কৰ্ম্মেই সে সাহায্য করে না ।” এই কথা অনেক স্থলের নাইটস্কুলের ছাত্রদিগের পক্ষেই খাটে ।
পাতা:সেকাল আর একাল.pdf/৭৮
অবয়ব