বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বদেশী সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

স্বদেশী সমাজ

কালের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগগুলি দুই অসমানের মিলনের সেতু নির্মাণ করতে লেগেছিল। আমি তখন বলেছিলাম—অসাম্যের মিলন অসম্মানের মিলন। দেব।

 আমি বলেছিলাম ভিক্ষা নেব না, নিজের শক্তিকে উদ্‌বোধিত করার দ্বারাই নিজের দেশকে অধিকার করব। এরই সঙ্গে আরো-একটি কথা আপনিই এসে পড়ে—সে হচ্ছে এই যে, শুধু যে নেব না তা নয়, যে দিকে নিজের দারিদ্র্য আছে, অজ্ঞান আছে, অস্বাস্থ্য আছে, সে দিকে অভাবপূরণের জন্য নিজের শক্তি সচেষ্ট হয়ে থাকবে, কিন্তু যে দিকে আমাদের পূর্ণতা সে দিকে দেবার দায়িত্বই আমাদের। আমরা যে বর্বর নই তার প্রমাণ দিতে হলেই ঐশ্বর্যের পরিচয় দিতে হবে। সে পরিচয় তো দানের দ্বারা। আমাদের পূর্বপুরুষেরা মানুষকে এমন কিছু দিয়ে গেছেন যা চিরকালের দান; অহংকার করবার বেলায় সে কথা আমরা বলি, ব্যবহার করবার বেলায় সে কথা আমরা ভুলি—তাতেই তো আমাদের পিতামহদের গৌরবকে ম্লান করে দিয়ে থাকি। তাঁরা বলেছিলেন, আয়ন্তু সর্বতঃ স্বাহা—সব জায়গা থেকে সবাই আমাদের কাছে আসুক। এত বড়ো নিমন্ত্রণ কোনো দরিদ্র করতে পারে না। ...

 চৈত্র ১৩৩২

১২

স্বদেশের দায়িত্বকে কেবল সুতো কাটায় নয়, সম্যকভাবে গ্রহণ করবার সাধনা ছোটো ছোটো আকারে দেশের নানা জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা আমি অত্যাবশ্যক মনে করি। সাধারণের মঙ্গল জিনিসটা অনেকগুলি ব্যাপারের সমবায়। তারা পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাদের একটাকে পৃথক করে নিলে ফল পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্যের সঙ্গে, বুদ্ধির

৯২