বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বদেশী সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পরিশিষ্ট : বর্জিত রচনাংশ

পৃ ১০, ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ ছত্রের অন্তর্বর্তী অংশ—

 সুস্থ অবস্থায় শারীরিক ক্রিয়ার প্রবর্তক অব্যবহিত উত্তেজনা শরীরের মধ্যেই থাকে—যখন মৃগনাভি, অ্যামোনিয়া, সাপের বিষ দিয়া শরীরকে সক্রিয় করিতে হয়, তখন অবস্থাটা নিতান্ত সংশয়াপন্ন। আজকাল আমাদের সমাজশরীরের আভ্যন্তরিক উত্তেজনা ইহাকে কোনো কাজেই প্রবৃত্ত করিতে পারিতেছে না, বৈদ্যমহাশয়ের বড়ি না হইলে একেবারে অচল।

পৃ ১০, ঊনবিংশ ও বিংশ ছত্রের মধ্যে বঙ্গদর্শনে ছিল—

 কে বলে জলকষ্টনিবারণের সামর্থ্য আমাদের নাই? একদা দেশের যে অর্থ দেশের কল্যাণকর্ম সাধন করিয়া চরম সার্থকতা লাভ করিত, আজ সেই অর্থ অজস্রধারায় মিল্‌টনের আড়গড়া, ডাইকের গাড়িখানা, ল্যাজারসের আসবাবশালা, হার্মান কোম্পানির দরজির দোকানকে অভিষিক্ত করিয়া দিতেছে! স্বদেশের শুষ্কতালুতে জলবিন্দু দিবার বেলায় টানাটানি না পড়িবে কেন?

 ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে, লেডি ডফ্‌রিন ফন্‌ডে, ম্যাজিস্ট্রেটসাহেবের ঘোড়দৌড়ে, লাট সাহেবের অভ্যর্থনায় টাকা ঝরিয়া পড়িতেছে কখন? যখন, সেই-টাকা-জোগান-কারী প্রজার দল দীপ্ত মধ্যাহ্নে পানীয় জলের জন্য হাহাকার করিতেছে, যখন ম্যালেরিয়ায় তাহারা উৎসন্ন হইয়া গেল, যখন তাহাদের গোরু বাছুর চরিবার এক ছটাক জমি নাই, যখন তাহাদের নিম্নভূমির উপর হইতে বর্ষার পর তিন-চার মাস ধরিয়া জলনিকাশের কোনো উপায় থাকে না!

 আর যাঁহারা পল্লী হইতে বাহির হইয়া সামান্য অবস্থা হইতে ধনী-অবস্থায় উত্তীর্ণ হইয়াছেন, তাঁহাদেরও ধনের আড়ম্বর করিবার স্থান

১০১