বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বদেশী সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

স্বদেশী সমাজ

সদরে এবং আড়ম্বরের উপায়ও বারো আনা বিলাতী। ইহাতে যে টাকাগুলাই কেবল বাহিরে চলিয়া যায় তাহা নহে, হৃদয়ও দেশে থাকে না। রুচির দ্বারা, অভ্যাসের দ্বারা, আচরণের দ্বারা প্রতি মুহূর্তে যাহাকে অবজ্ঞা করি, তাহাকে সাহায্য করিবার জন্য যে কেবল আর্থিক শক্তির অভাব ঘটে তাহা নহে—চিত্তশক্তিও থাকে না। সুতরাং তখন দেশহিতৈষিতার সর্বপ্রধান বুলি এই হইয়া দাঁড়ায় যে, ‘আমরা নিজে কিছুই করিতে পারিব না, কারণ আমরা গাড়িজুড়ি কোট্ বুট্ লইয়া অত্যন্ত ব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। হে সরকার, আমরা ‘লয়াল’, অতএব তুমিই সমস্ত করিয়া দাও—যদি না করো তবে গালি দিব।’

পৃ ১১, উদ্‌ধৃতির পরে বঙ্গদর্শনে ছাপা হয়—

 এইজন্য কবিকথিত ‘স্রোতের সেঁওলি’র মতো ভাসিয়াই চলিয়াছি।

 এরূপ অবস্থা কোনোমতেই চিরকাল থাকিতে পারে না। এইজন্য আপাতত স্রোতের অত্যন্ত প্রাবল্য দেখিলেও মনকে হতাশ হইতে দিই না। ইহাও তো দেখা গেছে এক সময় ইংরাজি-রচনার চর্চা দেশে অত্যন্ত প্রবল ছিল, তখনকার শিক্ষিত যুবকেরা বাংলাভাষাকে একান্তমনে ঘৃণা করিতেন। তখন কি কেহ কল্পনাও করিতে পারিত যে, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষায় আধুনিক কাব্যসাহিত্যের প্রথম অবতারণা করিবেন এবং রিচার্ড্‌সনের প্রিয় ছাত্র বাংলাভাষায় বাংলাসাহিত্যের ইতিহাস ও সমালোচনা লিখিতে অগৌরব বোধ করিবেন না?

 যেমন সাহিত্যে, তেমনি সকল দিকেই স্রোত ফিরিবে—ঘরে আসিতেই হইবে। চারি দিকে তাহার লক্ষণ দেখা দিতেছে।

 বাঙালীর সাহিত্যপ্রিয়তা একবার বাহিরে ফিরিয়া আসিবার ফলে,

১০২