পরিশিষ্ট : বর্জিত রচনাংশ
ভেদ করিয়া অজ্ঞাত আলোকের দিকে মাথা তুলিয়াছিল, পরবর্তী শাখা প্রশাখা যেন নিজেকে ‘ওরিজিন্যাল’ জ্ঞান করিয়া সেই অঙ্কুরকে সেকেলে বলিয়া উপহাস না করে।
গতবারে এ প্রবন্ধ যখন আমি পাঠ করিয়াছিলাম, তখন আমার উক্ত কথাটি সকলের কাছে সুস্পষ্ট হয় নাই। প্রতিবাদে এই কথা উঠিয়াছিল যে, দেশে নানা শক্তি নানা লোককে নানা দলকে আশ্রয় করিয়া কাজ করিবে, ইহাই দেশের স্বাস্থ্যের ও উন্নতির লক্ষণ। অতএব কেবলমাত্র সমাজের দিকে দৃষ্টি রাখিলে চলিবে না।
প্রবন্ধপাঠের শেষে এমন কথা যখন উঠিল তখন বুঝিলাম— আমার সমস্ত প্রবন্ধই ব্যর্থ হইয়াছে। আমি এই কথাই বিশেষ করিয়া বুঝাইবার চেষ্টা করিয়াছি যে, বিলাতে যেমনই হউক, আমাদের দেশে সমাজ একটা ক্ষুদ্র ব্যাপার নহে—যুদ্ধবিগ্রহ, কিয়ৎপরিমাণে পাহারার কাজ ও কিঞ্চিৎ পরিমাণে বিচারের কাজ ছাড়া দেশের আর-সমস্ত মঙ্গলকার্যই আমাদের সমাজ নিজের হাতে রাখিয়াছিল। ইহাই আমাদের বিশেষত্ব। এইজন্য এই সমাজব্যবস্থার উপরেই আমাদের মনুষ্যত্ব, আমাদের সভ্যতা স্থাপিত এবং এইজন্য এই সমাজকে আমরা চিরদিন সর্বতোভাবে স্বাধীন ও সক্রিয় রাখিতে একান্ত সচেষ্ট ছিলাম। অতএব কে বলিল সমাজের কাজ বলিতে কেবল একটিমাত্র কাজ বুঝাইতেছে?
আমি যদি বলি শরীরের সমস্ত কাজ শরীরেরই করা উচিত, তবে কি কেহ এই বলিবেন আমি তাহার কর্মক্ষেত্রকে সংকীর্ণ করিয়া আনিতে বলিতেছি? শরীরের কাজ বিবিধ, শরীরের কর্মস্থানও বিপুল, সে সম্বন্ধে কাহারও সন্দেহ নাই—কিন্তু শারীরিক ক্রিয়া শরীরের নিজের জিনিস এ কথা চিরদিন ভুলিয়া থাকিলে চলিবে না। আমি যদি পরকে বলি তুমি আমার হইয়া হজম করিয়া দাও এবং সেরূপ হজম করা যদি
১০৭