বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বদেশী সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

স্বদেশী সমাজ

পরের দ্বারা সম্ভবপর হয়, তবে তাহাতে মঙ্গল নাই। ব্যবহারের অভাবে নিজের পাকস্থলীটিকে সম্পূর্ণ খোয়াইয়া পরাশ্রিতশ্রেণীয় জীবের ন্যায় চিরকাল পরের গাত্রে সংলগ্ন হইয়া দিব্য পরিপুষ্টভাবে চোখ বুজিয়া থাকাকে গৌরবের বিষয় বলা চলে না। ইংরাজের পাকস্থলী তাহার স্টেটের মধ্যে থাকিতে পারে, কিন্তু স্টেট তাহার সমাজের বহির্‌ভুক্ত নহে। ইংরাজ সর্বদাই রাজনৈতিক আন্দোলন লইয়া ব্যাপৃত থাকে, কারণ রাজনীতি তাহার স্বকীয় কলেবরের মধ্যেই। আমরা তাহার নকল করিয়া পরের পাকস্থলীতে নিয়তই যদি আন্দোলন উপস্থিত করিতে যাই, তাহাতে কি আমাদের হজমের কোনো সহায়তা করিবে? যাহারা জাবর কাটে তাহাদের হজম করিবার বিধি একরূপ, যাহারা জাবর কাটে না তাহাদের হজম করিবার বিধি অন্যরূপ। জাবর কাটা হজম করিবার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় বলিয়া যদি প্রমাণিত হয়, তথাপি তাহা সকলের পক্ষে সুসাধ্য নহে এ কথা স্বীকার করিতে হইবে।

পৃ ২২, দশম ও একাদশ ছত্রের মধ্যে ছিল—

 ১২তর্ক এই উঠিতে পারে যে, ব্যক্তিগত হৃদয়ের সম্বন্ধ-দ্বারা খুব বড়ো জায়গা ব্যাপ্ত করা সম্ভবপর হইতে পারে না। একটা ছোটো পল্লীকেই আমরা প্রত্যক্ষভাবে আপনার করিয়া লইয়া তাহার সমস্ত দায়িত্ব স্বীকার করিতে পারি, কিন্তু পরিধি বিস্তীর্ণ করিলেই কলের দরকার হয়—দেশকে আমরা কখনোই পল্লীর মতো করিয়া দেখিতে পারি না, এই জন্য অব্যবহিতভাবে দেশের কাজ করা যায় না, কলের সাহায্যে করিতে হয়। এই কল-জিনিসটা আমাদের ছিল না, সুতরাং ইহা বিদেশ হইতে আনাইতে হইবে এবং কারখানাঘরের সমস্ত সাজ-সরঞ্জাম আইন-কানুন গ্রহণ না করিলে কল চলিবে না।

১০৮