স্বদেশী সমাজ
বলিয়া একবার অনুভব করুক।
এই অভিষেকের পরে সমাজপতি কাহাকে তাঁহার চারি দিকে আকর্ষণ করিয়া লইবেন, কিভাবে সমাজের কার্যে সমাজকে প্রবৃত্ত করিবেন, তাহা আমার বলিবার বিষয় নহে। নিঃসন্দেহ, যেরূপ ব্যবস্থা আমাদের চিরন্তন সমাজপ্রকৃতির অনুগত তাহাই তাঁহাকে অবলম্বন করিতে হইবে, স্বদেশের পুরাতন প্রকৃতিকেই আশ্রয় করিয়া তিনি নূতনকে যথাস্থানে যথাযোগ্য আসনদান করিবেন। আমাদের দেশে তিনি লোকবিশেষ ও দলবিশেষের হাত হইতে সর্বদাই বিরুদ্ধবাদ ও অপবাদ সহ্য করিবেন, ইহাতে সন্দেহমাত্র নাই। কিন্তু মহৎ পদ আরামের স্থান নহে—সমস্ত কলরব কোলাহলের মধ্যে আপনার গৌরবে তাঁহাকে দৃঢ়গভীরভাবে অবিচলিত থাকিতে হইবে। কাল যদি তাঁহার অভিষেক হয়, তবে তাহার পরদিন হইতেই আমরা অনেকেই অবোধ বাচালের ন্যায় ক্রমাগত প্রশ্ন তুলিতে থাকিব—কী করা হইল, এ কাজগুলা শেষ হইল না কেন, এবার বৈশাখে বারো আনা আম ঝড়ে পড়িয়া গেল কেন, আমার প্রতিবেশীর ভাগিনেয় ‘গুণনিধি’ উপাধি পাইল আর আমার ভ্রাতুষ্পুত্র কী অপরাধ করিয়াছে? কোনো অনাবশ্যক কৈফিয়তের চেষ্টা না করিয়া এই-সমস্ত প্রশ্নবৃষ্টি তাঁহাকে নীরবে সহ্য করিতে হইবে।
অতএব যাঁহাকে আমরা সমাজের সর্বোচ্চ সম্মানের দ্বারা বরণ করিব, তাঁহাকে এক দিনের জন্যও আমরা সুখস্বচ্ছন্দতার আশা দিতে পারিব না। আমাদের যে উদ্ধত নব্যসমাজ কাহাকেও হৃদয়ের সহিত শ্রদ্ধা করিতে সম্মত না হইয়া নিজেকে প্রতিদিন অশ্রদ্ধেয় করিয়া তুলিতেছে, সেই সমাজের সূচিমুখকণ্টকখচিত ঈর্ষাসন্তপ্ত আসনে যাঁহাকে আসীন হইতে হইবে, বিধাতা যেন তাঁহাকে প্রচুর পরিমাণে বল ও সহিষ্ণুতা প্রদান করেন—তিনি যেন নিজের অন্তঃকরণের মধ্যেই শান্তি ও কর্মের মধ্যেই
১১৪