স্বদেশী সমাজ
শান্তি পর্যন্ত টানিয়া লইয়া যাইতে হয়।
আমার কথার আর-একটা আধুনিক দৃষ্টান্ত দেখুন। আমি রাজশাহী ও ঢাকার প্রোভিন্শ্যাল কন্ফারেন্সে উপস্থিত ছিলাম। এই কন্ফারেন্স্-ব্যাপারকে আমরা একটা গুরুতর কাজের জিনিস বলিয়া মনে করি সন্দেহ নাই; কিন্তু আশ্চর্য এই দেখিলাম ইহার মধ্যে কাজের গরজের চেয়ে অতিথিসৎকারের ভাবটাই সুপরিস্ফুট। যেন বরযাত্রীর দল গিয়াছি—আহার-বিহার আরাম-আমোদের জন্য দাবি ও উপদ্রব এতই অতিরিক্ত যে, তাহা আহ্বানকর্তাদের পক্ষে প্রায় প্রাণান্তকর। যদি তাঁহারা বলিতেন ‘তোমরা নিজের দেশের কাজ করিতে আসিয়াছ, আমাদের মাথা কিনিতে আস নাই—এত চর্ব্যচোষ্যলেহ্যপেয়, এত শয়নাসন, এত লেমনেড-সোডাওয়াটার, গাড়িঘোড়া, এত রসদের দায় আমাদের ’পরে কেন’, তবে কথাটা অন্যায় হইত না। কিন্তু কাজের দোহাই দিয়া ফাঁকায় থাকাটা আমাদের জাতের লোকের কর্ম নয়। আমরা শিক্ষার চোটে যত ভয়ংকর কেজো হইয়া উঠি-না কেন, তবু আহ্বানকারীকে কাজের উপরে উঠিতে হইবে। কাজকেও আমরা হৃদয়ের সম্পর্ক হইতে বঞ্চিত করিতে চাই না। বস্তুত কন্ফারেন্সে কেজো অংশ আমাদের চিত্তকে তেমন করিয়া আকর্ষণ করে নাই, আতিথ্য যেমন করিয়াছিল। কন্ফারেন্স্ তাহার বিলাতি অঙ্গ হইতে এই দেশী হৃদয়টুকুকে একেবারে বাদ দিতে পারে নাই। আহ্বানকারীগণ আহূতবর্গকে অতিথিভাবে আত্মীয়ভাবে সংবর্ধনা করাকে আপনাদের দায় বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহাদের পরিশ্রম কষ্ট অর্থব্যয় যে কী পরিমাণে বাড়িয়া উঠিয়াছিল তাহা যাঁহারা দেখিয়াছেন তাঁহারাই বুঝিবেন। কন্গ্রেসের মধ্যেও যে অংশ আতিথ্য সেই অংশই ভারতবর্ষীয় এবং সেই অংশই দেশের মধ্যে পূরা কাজ করে—যে অংশ কেজো,
১৮