‘স্বদেশী সমাজ’ প্রবন্ধ-পাঠ
প্রথম সভা
গত ৭ই শ্রাবণ শুক্রবার অপরাহ্ণ সাড়ে ছয়টার সময় চৈতন্য লাইব্রেরির বিশেষ অধিবেশনে মিনার্ভা-থিয়েটার গৃহে শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় ‘স্বদেশী সমাজ’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন। সভায় শহরের অনেক গণ্যমান্য লোক উপস্থিত ছিলেন এবং জনতা এত অধিক হইয়াছিল যে, প্রায় এক সহস্র ব্যক্তি সভাগৃহে স্থান না পাইয়া ফিরিয়া গিয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত রমেশচন্দ্র দত্ত মহাশয় সভাপতির আসন গ্রহণ করেন।
···বিষয়গুলি বিস্তৃতভাবে বলিয়া উপসংহারে প্রবন্ধ-লেখক স্বদেশের পূজার জন্য সকলকে যে কবিত্বপূর্ণ ভাষায় উদ্বোধন করিয়াছিলেন তাহা সমবেত শত শত ব্যক্তি চিত্রার্পিতের ন্যায় নীরবে শ্রবণ করিয়াছিলেন। তাঁহার প্রবন্ধ সম্বন্ধে সভাপতি মুগ্ধভাবে বলিয়াছিলেন—এরূপ প্রবন্ধ তিনি কখনও শুনিয়াছেন বলিয়া তাঁহার স্মরণ নাই। উপস্থিত সমস্ত ব্যক্তি এই মন্তব্যের সত্যতা স্বীয় স্বীয় হৃদয়ের মধ্যে প্রবলভাবে উপলব্ধি করিয়াছিলেন।
গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য
প্রবন্ধপাঠান্তে স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় উঠিয়া উহার বিশেষ প্রশংসা করিলেন। তিনি বলিলেন, প্রবন্ধের বিষয় তিন ভাগে বিভক্ত করা যাইতে পারে। এক ভাগ সর্ববাদিসম্মত, যথা—রাজদ্বারে আবেদন করার অপেক্ষা আত্মনির্ভরের প্রতি লক্ষ স্থির করা উচিত, বিদেশ হইতে সংগ্রহ করিব দেশে সঞ্চয় করিব ইত্যাদি। দ্বিতীয় ভাগ—এমন কতক-
৪৭