বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বদেশী সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

‘স্বদেশী সমাজ’ প্রবন্ধ-পাঠ

স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করেন নাই; নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার যাঁহার প্রকৃতিগত ও অভ্যাসগত, নানা বিরোধী পক্ষের বিরোধসমন্বয় যাঁহার পক্ষে স্বাভাবিক; যিনি সুযোগ্যতার সহিত রাজার ও প্রকৃতিসাধারণের সম্মাননীয় কর্মভার সমাধা করিয়া বিচিত্র অভিজ্ঞতার দ্বারা ঐশ্বর্যবান্ অক্ষুব্ধ অবসর লাভ করিয়াছেন—সেই স্বদেশ-বিদেশের শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত, সেই ধনসম্পদের মধ্যে অবিচলিত তপোনিষ্ঠ ভগবৎপরায়ণ ব্রাহ্মণ শ্রীযুক্ত গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যদি এইখানে আমি উচ্চারণ করি, তবে অনেক পল্লবিত বর্ণনার অপেক্ষাও সহজে আপনারা বুঝিবেন কিরূপ সমাজকে আমি প্রার্থনীয় ও সম্ভবপর জ্ঞান করিতেছি।’

সভাপতি হীরেন্দ্রনাথ দত্তের মন্তব্য

 প্রবন্ধপাঠের পর সভাপতি মহাশয় বলিলেন, প্রবন্ধটি দ্বিতীয় বার শুনিলাম, কিন্তু এরূপ প্রবন্ধ শত শতবার শুনিলেও ইহার রসাস্বাদের জন্য পুনশ্চ আগ্রহ জন্মে। কেহ কেহ বলেন, রবীন্দ্রবাবু জাতীয় নৈরাশ্যের সংগীত শুনাইয়াছেন। আমার মনে হয়—ইঁহার কথা নব আশার সংগীত। তিনি বলিতেছেন, যে প্রণালীতে আন্দোলন হইয়া আসিতেছে তাহাতে কাজ হইবে না। যাঁহারা গতানুগতিতে কাজ করিতেছেন তাঁহারা হয়তো একটু ভীত হইয়া পড়িতেছেন। তাঁহাদের কার্যে ততটা স্বার্থত্যাগ নাই এবং দেশের জন্য জীবন ব্যয় করিয়া খাটিবার চেষ্টাও নাই। অথচ ‘দেশের কার্য করিতেছি’ এই বিশ্বাস জনিত একটা পরিতৃপ্তি আছে। রবীন্দ্রবাবু দেখাইয়াছেন—পূর্বে যে প্রণালীতে কাজ করা হইত এখন তাহা উপযোগী নহে। বৎসরের মধ্যে তিন দিন মাত্র একত্র হইয়া বাক্যব্যয় করিলে দেশের বিশেষ কোনো কল্যাণ সাধিত হইবে না। ইংরেজদের সদ্‌ব্যবহারে ইতিপূর্বে খানিকটা আশা ছিল, কিন্তু এখন সে

৫৩