বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বদেশী সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

স্বদেশী সমাজ : সংবিধান

 ২। ইচ্ছাপূর্বক আমরা বিলাতি পরিচ্ছদ ও বিলাতি দ্রব্যাদি ব্যবহার করিব না।

 ৩। কর্মের অনুরোধ ব্যতীত বাঙালীকে ইংরেজিতে পত্র লিখিব না।

 ৪। ক্রিয়াকর্মে ইংরেজি খানা, ইংরেজি সাজ, ইংরেজি বাদ্য, মদ্যসেবন এবং আড়ম্বরের উদ্দেশে ইংরেজ-নিমন্ত্রণ বন্ধ করিব। যদি বন্ধুত্ব বা অন্য বিশেষ কারণে ইংরেজ-নিমন্ত্রণ করি, তবে তাহাকে বাঙলা রীতিতে খাওয়াইব।

 ৫। যতদিন না আমরা নিজে স্বদেশী বিদ্যালয় স্থাপন করি ততদিন যথাসাধ্য স্বদেশীচালিত বিদ্যালয়ে সন্তানদিগকে পড়াইব।

 ৬। সমাজস্থ ব্যক্তিগণের মধ্যে যদি কোনো প্রকার বিরোধ উপস্থিত হয় তবে আদালতে না গিয়া সর্বাগ্রে সমাজনির্দিষ্ট বিচারব্যবস্থা গ্রহণ করিবার চেষ্টা করিব।

 ৭। স্বদেশী দোকান হইতে আমাদের ব্যবহার্য দ্রব্য ক্রয় করিব।

 ৮। পরস্পরের মধ্যে মতান্তর ঘটিলেও বাহিরের লোকের নিকট সমাজের বা সামাজিকের নিন্দাজনক কোনো কথা বলিব না।


 নিম্নলিখিত কয়েকটি বিষয়ে সমাজের কর্তব্য আবদ্ধ থাকিবে—

 সামাজিক ব্যবহার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কলাবিদ্যা, ব্যবসাবাণিজ্য, বিচার ও সাহিত্য।

 সামাজিক ব্যবহার অর্থাৎ বেশভূষা, গৃহোপকরণ, আহার বিহার, এক কথায় চাল-চলন সম্বন্ধে সমাজ যে আদর্শ নির্দিষ্ট করিয়া দিবেন তাহা সকলকে পালন করিতে হইবে। সমাজের বিশেষ লক্ষ থাকিবে যাহাতে আমাদের জীবনযাত্রার আদর্শ আড়ম্বরশূন্য ও অল্পব্যয়সাধ্য

৫৯