কিন্তু ক্ষুধিতের অন্ন জুটিতেছে না এবং তৃষিত জল পাইতেছে না ইহাতে আমাদের স্ত্রীলোকের প্রাণ যদি না কাঁদে, তবে দেশের মর্মস্থান পর্যন্ত বিকৃত হইয়া গেছে এ কথা মানিতে হইবে।
স্ত্রীলোকের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা নাই, পুরুষেই কর্তা, এই একটা বলিবার কথা আছে বটে। কথাটা সম্পূর্ণ সত্য কি না সে আলোচনা আপাতত করিতে চাই না। কিন্তু দেশে বিধবা-স্ত্রীলোকের হাতে জমিদারি পড়িয়াছে, দেশে এমন ঘটনা বিরল নহে। কাগজে যখন দেখিতে পাই তাঁহারা সদর স্টেশনে গবর্মেণ্টের সদর-আপিস-নির্মাণের জন্য জমি ছাড়িয়া দিতেছেন, তখন আমি বাঙালি স্ত্রীলোক, স্বদেশী মেয়েদের উপর আমার ধিক্কার জন্মে।
আমাদের দেশের পুরুষেরা অনেক দিন হইতে গোলামি করিয়া আসিতেছে— গবর্মেণ্টের নাড়া না খাইলে, উপাধির লোভ না পাইলে, তাহাদের যদি সাড়া না পাওয়া যায়, তবে নাহয় তাহাদিগকে মাপ করা যাইবে। কিন্তু আমরা মেয়েমানুষ, আমাদের একটা গর্ব ছিল যে, দেশের ধর্ম দেশের অন্তঃপুরেই শেষ আশ্রয় লইয়াছে। আমাদের এই গর্ব ছিল যে, যখন দেশের পুরুষেরা অনেক দিন ধরিয়া যে চরণের আঘাত খাইতেছে সেই চরণে লুটাইয়াই জন্ম কাটাইল, তখন মেয়েরা যে চরণকে ভক্তি করে সেই চরণেরই সেবা করিয়া আসিয়াছে। মেয়েরা ভয়ের তাড়না বা লোভের উত্তেজনায় নয়, কিন্তু প্রাণের টানেই ক্ষুধিতের ক্ষুধা, তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা মিটাইয়া আসিয়াছে, রোগের সেবা ও শোকের সান্ত্বনা তাহাদের স্নেহেরই কাজ, অতএব ধর্মই তাহাদের পক্ষে যথেষ্ট— রাজদণ্ডের প্রয়োজন নাই।
দেশের কপালক্রমে এখন কি তাহার উল্টা দেখিতে হইবে? দেশে যখন অন্নজলের টানাটানি তখন যে স্ত্রীলোকের হাতে ভগবান সামর্থ্য