অবলাদের পক্ষে বিনা কারণে অসহ্য জলতৃষ্ণাকেই তিনি পুণ্যের উপায় করিয়া থাকেন, তবে এ দেশের মানুষের মনে দয়া হইবে কেমন করিয়া? বাপ মা যেখানে মেয়েকে, ছেলে মেয়ে যেখানে মাকে, মরিয়া গেলেও মুখে জল দিতেছে না, সেখানে দেশের জলকষ্টের জন্যে দুটো-চারটে ধনী বিধবার মনে দয়া জন্মাইবার চেষ্টা করিয়া ফল কী হইবে?
অথচ শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতকে যখন জিজ্ঞাসা করি তাঁহারা সকলেই বলেন, এরূপ নিরম্বু উপবাস কোনো প্রামাণ্য শাস্ত্রের বিধান নহে। তবে তাঁহারা এই অশাস্ত্রীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে কথা কহেন না কেন? তাঁহাদের সাহস হয় না। যে দেশের শাস্ত্রজ্ঞানীরা এত বড়ো অধর্ম করিতে পারেন, সে দেশ জলের কষ্ট কাহাকে নিবেদন করিবে?
বিশেষ কোনো তিথিতে মানুষ জল না খাইলে দয়াময় ভগবান তাহার ’পরে বিশেষভাবে প্রসন্ন হন এ কথা বিশ্বাস করেন না এমন লোক নিশ্চয়ই এ দেশে অনেক আছেন, তবু তাঁহারা যদি তাঁহাদের কন্যা ভগিনী মাতাকে জানিয়া শুনিয়া নিষ্ফল পীড়া দিতে পারেন, তবে এমন পাপিষ্ঠ দেশকে দয়া করিবে কে?
এমনও শুনিয়াছি— একাদশীর দিনে বিধবার নিরম্বু-উপবাস বাংলাদেশের বাহিরে কোথাও প্রচলিত নাই। যে প্রথা কোনো শ্রদ্ধেয় শাস্ত্রে উপদিষ্ট বা অধিকাংশ হিন্দুসমাজেই অনুষ্ঠিত হয় না, সেই প্রথাকে দেশের পণ্ডিত লোকেরা যদি উঠাইয়া দিতে না পারেন— যে-সকল অন্যায় তাঁহাদের স্বকৃত এবং যাহার প্রতিকার তাঁহাদের সাধ্যায়ত্ত তাহাদের সম্বন্ধেও যদি তাঁহারা উদাসীন থাকেন— তবে জলকষ্টের কথা যে আমরা লজ্জায় মুখে আনিতে পারিব না।
আমাদের অনেক দুঃখকষ্টের প্রতিকারের জন্য দেশের শিক্ষিত লোকে গবর্মেণ্টের কাছে দাবি করিয়া থাকেন। তখন তাঁহাদের মনের উত্তেজনা