বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বদেশী সমাজ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সঞ্চয়ন

সামাজিক মহাদেশ সৃজিত হইবে! সেই মহাদেশ সৃজন করিবার উদ্দেশে আমাদের সকলকেই আপনাকে সৃজন করিতে হইবে, আপনার আশপাশ সৃজন করিতে হইবে। আপনাকে উন্নত করিয়া তুলিতে হইবে। প্রত্যেকে উঠিব, প্রত্যেকে উঠাইব—এই আমাদের এখনকার কাজ। কিন্তু সে নাকি কঠোর সাধনা, সে নাকি নিভৃতে সাধ্য, সে নাকি প্রকাশ্য স্থলে হাঙ্গাম করিবার বিষয় নহে, সে প্রত্যহ অনুষ্ঠেয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজের সমষ্টি—সে কঠিন কর্তব্য বটে, অথচ ছায়াময়ী বৃহদাকৃতি দুরাশা নহে—এই নিমিত্ত উদ্দীপ্তহৃদয়দের তাহাতে রুচি হয় না। এরূপ অবস্থায় এইসকল ছোটো কাজই বাস্তবিক দুরূহ, প্রকাণ্ডমূর্তি কাজের ভাণ ফাঁকি মাত্র। আমাদের চারি দিকে, আমাদের আশে-পাশে, আমাদের গৃহের মধ্যে, আমাদের কার্যক্ষেত্র। ...

 সেই গৃহপ্রতিষ্ঠা, স্বদেশে সেই স্বদেশপ্রতিষ্ঠা, স্বদেশীয়ের প্রতি স্বদেশীয়ের বাহু প্রসারণ, এই আমাদের এখনকার ব্রত, এই আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। ..

 আশ্বিন ১২৯১

ন্যাশনাল শব্দটা যখন বাংলাদেশে প্রথম প্রচার হয় তখনকার কথা মনে পড়ে। একদিন প্রাতঃকালে উঠিয়া হঠাৎ দেখা গেল চারি দিকে ন্যাশনাল পেপার, ন্যাশনাল মেলা, ন্যাশনাল সং (song), ন্যাশনাল থিয়েটার—ন্যাশনাল কুজ্ঝটিকায় দশ দিক আচ্ছন্ন।··· এই ন্যাশনাল উদ্দীপনা··· অনেকটা সংহত হইয়া এখন ... ‘পোলিটিক্যাল অ্যাজিটেশন’ আকার ধারণ করিয়াছে।

 এই অ্যাজিটেশনের মধ্যে একটা ভাব এই লক্ষ্য হয় যে, আমাদের

৭৭