স্বদেশী সমাজ
নিজের কিছুই করিবার নাই। কেবল পশ্চাৎ হইতে মাঝে মাঝে গবর্ন্মেণ্টের কোর্তা ধরিয়া যথাসাধ্য টান দেওয়া আবশ্যক।...
যদি কোনো দুঃসাহসিক ব্যক্তি এমন কথা বলেন যে কেবল গবর্ন্মেণ্ট্কে ডাকাডাকি না করিয়া আমাদের নিজের হাতেও কিছু কাজ করা আবশ্যক, তাহা হইলে সে কথাটা তাড়াতাড়ি চাপা দিতে ইচ্ছা করে। ...
ইহার কারণ আমাদের জাতীয় চরিত্রের মধ্যে নিহিত। ... জাতির মধ্যে উদ্যম সত্যপরতা আত্মনির্ভর সৎসাহস না থাকিলে অঞ্জলি বদ্ধ করিয়া রেপ্রেজেণ্টেটিব গবর্ন্মেণ্ট্ ভিক্ষা চাহিতে বসা বিড়ম্বনা। আমার মনে হয় আমাদের দেশের লোকদের ডাকিয়া ক্রমাগত এই কথা বলা আবশ্যক যে, ইংরেজ গবর্ন্মেণ্টের প্রসাদে সুশাসন প্রভৃতি যে-সকল ভালো জিনিস পাইয়াছি, কোনো জাতি সেগুলি পড়িয়া পায় নাই, তাহার জন্য বিস্তর যোঝাযুঝি সংযম আত্মশিক্ষা ত্যাগস্বীকার করিতে হইয়াছে। ... পড়িয়া পাওয়াকে পাওয়া বলে না, কেননা তাহার স্থায়িত্ব নাই, তাহাতে কেবল নিশ্চিন্ত বা নিশ্চেষ্ট ভাবে সুখে থাকা যায় মাত্র—কিন্তু তাহাতে জাতীয় চরিত্রের বিশেষ উন্নতি হয় না। আমরা যে সুখ পাইতেছি আমরা তাহার যোগ্য নহি, আমরা যে দুঃখ পাইতেছি সে কেবল আমাদের নিজের দোষে। এ কথা শুনিলে লোকে অত্যন্ত উল্লাসিত হইয়া উঠিবে না—এ কথা কেবলমাত্র জয়ধ্বজায় লিখিয়া উড়াইয়া বেড়াইবার কথা নহে—এ কথার অর্থ নিজে কাজ করো, ধৈর্যসহকারে শিক্ষালাভ করো, বিনয়ের সহিত গভীর লজ্জার সহিত আপনার দোষ ও অযোগ্যতা স্বীকার করিয়া তাহা আপন যত্নে দূর করিবার চেষ্টা করো, যাহাদের কাছে সহস্র বিষয়ে ঋণী আছ তাহাদের ঋণ স্বীকার করো, সে ঋণ ধীরে ধীরে শোধ করো। ..
৭৮