পাতা:স্বর্ণ-শৃঙ্খল নাটক.pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আদি বাঙলা নাটক “কুলীনকুল-সৰ্ব্বস্বের" এক বৎসরের কনিষ্ঠ, আর প্রকাশ-কাল ধরিয়া বিবেচনা করিলে, এখনি “নীল-দপণের"ও কনিষ্ঠ হইয়া পড়ে, কারণ নীলদর্পণও প্রথমে ঢাকায়, ১২৬৭ সালে ( ১৮৬০ খষ্টাব্দে ) ছাপা হইয়াছিল। ১২৬৮ সালে ( ১৮৬১ খষ্টাব্দে ) ঢাকায় “নীলদর্পণ” সৰ্ব্বপ্রথম অভিনীত হইয়াছিল । সেখানে যে সম্প্রদায় উহার অভিনয় করেন, সে সম্প্রদায় “পূৰ্ব্ববঙ্গ রঙ্গভূমি" নামে পরিচিত ছিলেন । নীলদর্পণ অভিনয়ের দুই বৎসর পরে ঢাকাতেই আমাদের আলোচ্য গ্রন্থখানি মুদ্রিত হইয়াছে দেখিয় মনে হয় যে, যে “সহৃদয় বন্ধুগণের অনুরোধে অভিনয় করিবার নিমিত্ত বরিশালে এই নাটক লিখিত হয়"-সেই বন্ধুগণই বা ঢাকার এই পূৰ্ব্ব-বঙ্গ রঙ্গ ভূমির অভিনেতৃবর্গ। আবার মনে হয়, যখন বরিশালে এথানি রচিত হয়, তখন বরিশালেই যে সে “সহৃদয় বন্ধুগণ” নাট্যসম্প্রদায় গঠিত করেন নাই, তাহারই বা নিশ্চিত প্রমাণ কোথা ? যাহা হউক, এই বিস্তৃত এবং লুপ্ত-প্রায় নাটকখানির আবিষ্কার হওয়াতে, ইহা হইতে কৌতুহলোদ্দীপক কয়েকটি নুতন তথ্যও জানা গেল। যে পুস্তকখণ্ড লইয়া আমরা এই বিবরণ লিখিতেছি,—এখানিও আবার একটু ঐতিহাসিক তথ্যপূর্ণ হইয়া আছে দেখা যাইতেছে। ইহার বিজ্ঞাপনের পৃষ্ঠায় দুইটি নাম লেখা আছে,-বাঙলায় শ্ৰীহীরালাল বসু এবং ইংরাজীতে * * Burman আর প্রথম পৃষ্ঠায় বাঙলায় লেখ৷ আছে "সিংস থিয়েটার—শ্ৰীনারায়ণ সিংহ ম্যানেজার।” এই থিয়েটার সম্প্রদায় বা ইহার ম্যানেজার মহাশয়ের কোন বিবরণ জানা যায় নাই কিন্তু একটা যে ছিল তাহাই জানা গেল, এই টুকু লাত। অতঃপর পুস্তকখানি সম্বন্ধে দুই চারি কথা বলিয়া আমরা প্রস্তাব শেষ করিব। গ্রন্থখানির বর্ণনীম্ব বিষয়-দ্ৰৌপদীর বস্ত্রহরণ । “কুলীনকুল-সৰ্ব্বস্ব”