দিতেছেন, তাঁহার একটী হাত ঊর্দ্ধে উত্তোলিত—এই সুন্দর প্রতিমূর্ত্তিটী রহিয়াছে। দুই পার্শ্বে থান দুইটীর শিরোদেশ ব্যাপিয়া বৃক্ষতলে আসীনা এক রমণীমূর্ত্তি খোদিত আছে। মূর্ত্তিটী অনেকটা মুছিয়া গিয়াছে। ইহা বুদ্ধজননী মায়াদেবীর প্রতিমূর্ত্তি ভিন্ন আর কিছুই হইতে পারে না। অপর তিনটী দরজার খিলানে কোন নক্সা ছিল না, কিন্তু পুকুরপাড়ে যে চাবড়াখানি পড়িয়াছিল, সেখানে ইহাদেরই মধ্যে কোন একটী হইতে খসিয়া পড়িয়াছে বলিয়া বোধ হইল। ইহাতে অনিপুণভাবে অঙ্কিত এক রাজার মূর্ত্তি আছে; স্থানীয় লোক উহা সূর্য্যের প্রতিমূর্ত্তি বলিয়া নির্দ্দেশ করে। এই ক্ষুদ্র মন্দিরটির গাঁথুনি চমৎকার এবং উহা যে এতদিন ধরিয়া টিকিয়া রহিয়াছে, তাহা সম্ভবতঃ এই কারণেই। এক একখানি পাথরের চাঙ্গর এরূপভাবে কাটা হইয়াছে যে উহা দেওয়ালের এক একখানি ইষ্টকস্থানীয় না হইয়া মিস্ত্রী যে নক্সানুযায়ী গাঁথিবে স্থির করিয়াছে, তাহার এক একটি অংশের স্থান অধিকার করিয়াছে। একটা কোণা ঘুরিয়া গিয়া উহা দুইটী (এবং কোথাও বা তিনটী) বিভিন্ন দেওয়ালের অঙ্গীভূত হইয়াছে। এই ব্যাপারটি হইতেই মন্দিটী যে অতি প্রাচীন, এমন কি হয়ত মার্ত্তণ্ডের মন্দির অপেক্ষাও প্রাচীন, এইরূপ মনে হইল। মনে হইতেছিল, রাজের কাজ যত না হউক, যেন ছুতারের কাজ পাথরে সারাই মিস্ত্রীদের মাথায় ছিল। স্বামিজীর ধারণা হইয়াছিল যে, কোন পবিত্র কুঞ্জের স্মৃতিরক্ষার্থই এই মন্দিরটি নির্ম্মিত হইয়া থাকিবে এবং সম্ভবতঃ সেই কুণ্ডের জলই ছাপাইয়া মন্দির প্রাঙ্গণে আসিয়া ইহার চারি পাশের জলরাশিতে পরিণত হইয়াছে।
৯২