বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বামিজীর সহিত হিমালয়ে - ভগিনী নিবেদিতা (১৯৫১).pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পাণ্ড্রেন্থানের মন্দির

 স্বামিজীর চক্ষে স্থানটী অতি মধুর পূর্ব্বকথার উদ্দীপনা করিয়া দিল। ইহা বৌদ্ধধর্মের প্রত্যক্ষ নিদর্শনস্বরূপ এবং তিনি ইতঃপূর্ব্বে কাশ্মীরের ইতিহাসকে যে চারিটী ধর্ম্মযুগে বিভক্ত করিয়াছিলেন, ইহা তাহাদেরই অন্যতম।

 (১) বৃক্ষ ও সর্পপূজার যুগ—এই সময় হইতেই নাগ-শব্দান্ত কুণ্ডনামগুলির প্রচলন, যথা বেরনাগ ইত্যাদি, (২) বৌদ্ধধর্ম্মের যুগ, (৩) সৌরোপাসনার আকারে প্রচলিত হিন্দুধর্ম্মের যুগ এবং (৪) মুসলমানধর্ম্মের যুগ। তিনি বলিলেন, ভাস্কর্য্যই বৌদ্ধধর্ম্মের বিশেষ শিল্প এবং সূর্য্যচিহ্নিত চক্র অথবা পদ্ম ইহার খুব মামুলি কারুকার্য্যস্থানীয়। সর্পসম্বলিত মূর্ত্তিগুলিতে বৌদ্ধধর্ম্মের পূর্ব্বেকার যুগের আভাস। কিন্তু সৌরোপাসনার কালে ভাস্কর্য্যের যথেষ্ট অবনতি হইয়াছিল, এই নিমিত্ত সূর্য্যমূর্ত্তিটী নৈপুণ্য-বর্জ্জিত।

 তার পর আমরা বনমধ্যস্থ সেই ক্ষুদ্র মন্দিরটী ত্যাগ করিয়া আসিলাম। প্রায় অষ্টাদশ শতাব্দী পূর্ব্বে[] যখন পৃথিবীতে বিরাট্‌ বিরাট্‌ ব্যাপার ঘটনোন্মুখ হইয়া উঠিয়াছিল, সেই সুদূর অতীতে মানুষের পূজা করিবার মত ইহার অভ্যন্তরে কি ছিল? আমরা নিশ্চয় করিয়া বলিতে পারি নাই, শুধু অনুমান করিতে পারিয়াছিলাম। ইত্যবসরে তথায় একটী জিনিস ছিল, যাহার সম্মুখে আমরা প্রণত হইতে পারিয়াছিলাম—উহা শিক্ষাদানরত বুদ্ধ। আমরা একটী চিত্র মানসনেত্রের সম্মুখে উপস্থাপিত করিতে


  1. আমরা যে সময় পাণ্ড্রেন্থান দেখি তখন উহাকে কনিষ্কের সমসাময়িক (১৫০ খ্রীষ্টাব্দ) বলিয়া ধরিয়া লইয়াছিলাম। উহা বাস্তবিকই অত পুরাতন কিনা আমি নিশ্চয় করিয়া বলিতে পারি না। —লেখিকা

৯৩