পারিয়াছিলাম—সেটী সেই বিশাল দারুময় নগর এবং তাহার কেন্দ্রস্থলে এই মন্দিরটী। এই নগর বহু বহু বৎসর পরে অগ্নিসাৎ হয় এবং এখন প্রায় পাঁচ মাইল দূরে সরিয়া বসিয়াছে। সুতরাং একটী স্বপ্নরাজ্যের কল্পনা করিয়া আমরা দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়া তরুরাজির মধ্য দিয়া নদীতীরে ফিরিয়া আসিলাম।
তখন সূর্য্যাস্তের সময়—কি অপরূপ সূর্য্যাস্ত! পশ্চিমদিকের পর্ব্বতগুলি গাঢ় লালরঙ্গে ঝক্ঝক্ করিতেছে। আরও উত্তরে বরফ এবং মেঘে সেগুলি নীল দেখাইতেছিল। আকাশ হরিৎ এবং পীত, তাহার সহিত ঈষৎ লাল—উজ্জ্বল অগ্নিশিখার রঙ্গের এবং ড্যাফোডিল ফুলের মত হরিদ্রাবর্ণ; তাহার পিছনেই নীল এবং ওপ্যালের মত সাদা জমি (background)। আমরা দাড়াইয়া দেখিতে লাগিলাম এবং তৎপরেই ‘সুলেমানের সিংহাসন’ (যাহা ইতোমধ্যেই আমাদের প্রিয়পাত্র হইয়া উঠিয়াছিল, সেই ক্ষুদ্র তক্ত্) নজরে পড়িবামাত্র আচার্য্যদেব বলিয়া উঠিলেন, “মন্দিরস্থাপনে হিন্দু কি প্রতিভারই বিকাশ দেখায়! যেখানে চমৎকার দৃশ্য মিলে, সে সেই স্থানটীই বাছিয়া লয়! দেখ, এই তক্ত্ হইতে সমস্ত কাশ্মীরটী দেখিতে পাওয়া যায়। নীল জলরাশির মধ্য হইতে লোহিতাভ হরিপর্ব্বত উঠিয়াছে, যেন মুকুট পড়িয়া একটী সিংহ অৰ্দ্ধশায়িতভাবে অবস্থান করিতেছে। আর মার্ত্তণ্ডের মন্দিরের পাদমূলে একটী উপত্যকা রহিয়াছে!”
আমাদের নৌকাগুলিকে বনপ্রান্ত হইতে অনতিদূরে নোঙ্গর করা হইয়াছিল এবং আমরা দেখিতে পাইলাম যে আমাদিগের সদ্যআবিষ্কৃত নিস্তব্ধ দেবালয় এবং বুদ্ধমূর্তিটী স্বামিজীর মনে গভীর ভাবের
৯৪