বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বামিজীর সহিত হিমালয়ে - ভগিনী নিবেদিতা (১৯৫১).pdf/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পাণ্ড্রেন্থানের মন্দির

উদ্রেক করিয়াছে। সেই দিন সন্ধ্যার সময় আমরা ধীরামাতার বজরায় একত্র হইলাম এবং তত্রত্য কথোপকথনের কিয়দংশ এখানে লিপিবদ্ধ হইল। ঈশাহী ধর্ম্মের ক্রিয়াকাণ্ড বৌদ্ধধর্ম্মের ক্রিয়াকাণ্ড হইতেই উদ্ভূত, আচার্য্যদেব এই মর্ম্মে বলিতেছিলেন কিন্তু আমাদের একজন এই মতটী আদৌ মানিতে চাহেন না।

 উক্ত রমণী জিজ্ঞাসা করিলেন, “বৌদ্ধ কর্মকাণ্ডই বা কোথা হইতে আসিল?”

 স্বামিজী সংক্ষেপে উত্তর দিলেন, “বৈদিক কর্ম্মকাণ্ড হইতে।” প্রশ্নকর্ত্রী পুনরায় বলিলেন, “অথবা, ইহা দক্ষিণ ইউরোপেও প্রচলিত ছিল বলিয়া এইরূপ সিদ্ধান্ত করাই ভাল নয় কি যে বৌদ্ধ, ঈশাহী এবং বৈদিক ক্রিয়াকাণ্ড সকলই এক সাধারণ ভূমি হইতে উদ্ভুত?”

 স্বামিজী উত্তর দিলেন, “না, তাহা হইতেই পারে না! তুমি ভুলিয়া যাইতেছ যে, বৌদ্ধধর্ম্ম সম্পূর্ণভাবে হিন্দুধর্মেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল! এমন কি, জাতিবিভাগের বিরুদ্ধে পর্য্যন্ত বৌদ্ধধর্ম্ম কিছু বলে নাই! অবশ্য, জাতিবিভাগ তখনও কোন নির্দিষ্ট রূপ লাভ করে নাই এবং বুদ্ধদেব আদর্শটীকে পুনঃস্থাপন করিতে প্রয়াসী হইয়াছিলেন মাত্র। মনু বলিতেছেন, যিনি এই জীবনেই ভগবৎসাক্ষাৎকার করেন, তিনিই ব্রাহ্মণ। বুদ্ধদেব এইটী সাধ্যমত কার্য্যে পরিণত করিতে চাহিয়াছিলেন মাত্র।”

 প্রতিপক্ষ তখনও জিজ্ঞাসা করিতেছেন, “কিন্তু ঈশাহী এবং বৈদিক ক্রিয়াকাণ্ডের মধ্যে কি সম্বন্ধ? তাহারা এক, ইহা কখনও সম্ভব হইতে পারে? এমন কি, আমাদের পূজাপদ্ধতির যাহা মেরুদণ্ডস্বরূপ, আপনাদের ধর্ম্মে তাহার নামগন্ধও নাই!”

৯৫