সকলের শেষে ভোজন করেন। বিবাহ ব্যক্তিগত সুখের জন্ম নহে, উহা জাতি ও বর্ণের কল্যাণের নিমিত্ত। নব্য সংস্কারকগণের মধ্যে কতিপয় ব্যক্তি সমস্যাপূরণের অনুপযোগী এক পরীক্ষায় হস্তক্ষেপ করিয়া জীবন আহুতি দিয়াছেন, আর সমস্ত জাতি তাঁহাদিগের উপর দিয়া চলিয়া যাইতেছে।
তৎপরে পুনরায় কথাবার্তার ভাব বদলাইয়া গেল এবং কেবল হাসিঠাট্টা, কৌতুক এবং গল্পগুজব চলিতে লাগিল। আমরা শুনিতে শুনিতে হাসিয়া অধীর হইতেছিলাম। এমন সময়ে নৌকা আসিয়া পৌঁছিল এবং সে দিনের মত কথাবার্ত্তা শেষ হইল।
সে-দিনকার সমস্ত বৈকাল এবং রাত্রি স্বামিজী পীড়িত হইয়া নিজ নৌকায় শুইয়াছিলেন। কিন্তু পরদিন যখন আমরা বিজবেহার মন্দিরে অবতরণ করিলাম—ইতোমধ্যেই তথার অমরনাথযাত্রীর ভিড় লাগিয়া গিয়াছে—তখন তিনি আমাদের সহিত কিয়ৎক্ষণের জন্য মিলিত হইতে সক্ষম হইয়াছিলেন। ‘শীঘ্র সারিয়া উঠা এবং শীঘ্র অসুখে পড়া’—চিরকালই তাঁহার বিশেষত্ব ছিল, একথা তিনিও নিজের সম্বন্ধে বলিতেন। উহার পর, দিবসের অধিকাংশ সময়ই তিনি আমাদের সহিত ছিলেন এবং অপরাহ্ণে আমরা ইাস্বামবাদ পৌঁছিলাম।
একটি আপেল-বাগানের ধারে নৌকাগুলি লাগান হইল। জলের কিনারা পর্য্যন্ত ঘাস জন্মিয়াছে, আর ময়দানের উপর আপেল, নাসপাতি এবং আলুবোখারা গাছ পর্য্যন্ত। ইতস্ততঃ ছড়াইয়া রহিয়াছে। এই সব গাছ হিন্দুরাজগণ প্রতি গ্রামের বহির্দ্দেশে রোপণ করা আবশ্যক মনে করিতেন। আমাদের মনে
১০৪