বিতস্তাতীরে পাদচারণা
চলিল। বৃন্দাবনে বানরগুলা কিরূপ দুষ্টামি করিতে পারে, তাহার অনেক বর্ণনা শুনিলাম এবং আমরা খোঁচাইয়া খোঁচাইয়া জানিতে পারিলাম যে স্বামিজীর পরিব্রাজক জীবনে দুইটী বিভিন্ন ঘটনায় বিপদে যে সাহায্য আসিতেছে তাহা পূর্ব্ব হইতে তিনি জানিতে পারিয়াছিলেন এবং ভবিষ্যৎ দর্শন সত্য হইয়াছিল। ইহাদের মধ্যে একটী আমার মনে আছে। সম্ভবতঃ যে সময়ে তিনি অজগরব্রত অবলম্বন করিয়াছিলেন, ইহা সেই সময়কার ঘটনা। তিনি কয়েক দিন (হয়ত পাঁচ দিন) ধরিয়া কিছু খাইতে পান নাই। ভিনি এক রেলষ্টেশনে ক্লান্তিতে মৃতকল্প হইয়া পড়িয়া ছিলেন, এমন সময়ে সহসা তাঁহার মনে হইল যে, তাঁহাকে উঠিয়া কোন একটী রাস্তা দিয়া যাইতে হইবে, আর সেখানে তিনি একজন লোকের দেখা পাইবেন, সে তাঁহাকে সাহায্য করিবে। তিনি তদনুসারে কার্য্য করিলেন এবং এক থালা খাবার হাতে একজন লোকের দেখা পাইলেন। এই ব্যক্তি তাঁহার নিকটে আসিরা তাঁহাকে ভাল করিয়া নিরীক্ষণ করিল এবং জিজ্ঞাসা করিল, “যাঁহার নিকট আমি প্রেরিত হইয়াছি, আপনিই কি তিনি?”
তৎপরে একটি শিশু আমাদিগের নিকট আনীত হইল, তাহার হাত খুব কাটিয়া গিয়াছে। স্বামিজীও বৃদ্ধামহলে প্রচলিত একটা ঔষধ প্রয়োগ করিলেন—তিনি ক্ষতস্থানটী জল দিয়া ধুইয়া দিয়া রক্তপড়া বন্ধ করিবার জন্য এক টুক্রা কাপড় পোড়াইয়া তাহার ছাই উক্ত স্থানে চাপাইয়া দিলেন। গ্রামবাসিগণ আশ্বস্ত হইয়া শান্ত হইল এবং সেই রাত্রির মত আমাদের গল্প-গুজব বন্ধ হইল।
২৩শে জুলাই। পরদিন প্রাতঃকালে হরেক রকমের একদল
১০৭