বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বামিজীর সহিত হিমালয়ে - ভগিনী নিবেদিতা (১৯৫১).pdf/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
স্বামিজীর সহিত হিমালয়ে

কুলি আমাদিগকে মার্ত্তণ্ড-মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখাইতে লইয়া যাইবার জন্য আপেল গাছগুলির নীচে একত্র হইয়াছিল। মার্তণ্ড-মন্দির এক অদ্ভুত প্রাচীন সৌধ ছিল। উহাতে স্পষ্টই মন্দিরের অপেক্ষা মঠের লক্ষণ অধিক ছিল। উহা এক অপূর্ব্ব স্থানে অবস্থিত এবং যে সকল বিভিন্ন যুগের মধ্য দিয়া উহা শ্রীবৃদ্ধিলাভ করিয়াছিল, তাহাদের বিভিন্ন নির্ম্মাণপদ্ধতির স্পষ্ট একত্র সমাবেশ-প্রযুক্তই উহা অতীব দর্শনীয় বস্তু হইয়াছিল। অপরাহ্ণে সূর্য্যকে পশ্চিমদিকে আমাদের ঠিক পশ্চাতে রাখিয়া যখন আমরা উহাতে প্রবেশ করিলাম, তখন সাম্‌নের থিলানশ্রেণীর অধোভাগে যে গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ ছায়া পড়িয়াছিল তাহা আমি কখনও ভুলিতে পারিব না। একটীর পর একটী করিয়া তিনটী খিলান এবং তাহাদের সবচেয়ে পিছনকারটীর ভিতরেই উচ্চতার দুই-তৃতীয়াংশে এক গুরুভার সরলরেখাবিশিষ্ট বাতায়নশীর্ষ। সব খিলানগুলিই ত্রিপত্রাকার ছিল, কিন্তু মাত্র প্রথম ও দ্বিতীয়টীতেই আমরা উহা টের পাইয়াছিলাম, কারণ উহাদিগকে আমরা প্রবেশমুহূর্ত্তেই দেখিতে পাইয়াছিলাম। স্পষ্টতঃ পুণাকুণ্ডসকলের ধারে ভারী প্রস্তরখণ্ডনির্ম্মিত তিনটী আয়তাকার মন্দিররূপেই স্থানটীর প্রথম সূত্রপাত হইয়াছিল। এই তিনটি প্রকোষ্ঠের নির্ম্মাণপদ্ধতি সব সরলরেখাবিশিষ্ট (straight-lined) এবং উগ্রদর্শন (severe) ছিল। তিনটীর মধ্যে মাঝখানের এবং সর্ব্বাপেক্ষা পূর্ব্বদিকেরটী লইয়া কোনও পরবর্ত্তী রাজা ইহার চারি ধারে একটী দেয়ালের বেষ্টনী নির্ম্মাণ করিয়াছিলেন। আসল মন্দিরটীতে কোনরূপ হস্তক্ষেপ না করিয়া তিনি প্রত্যেক অনুচ্চ সরদালবিশিষ্ট দুয়ারে

১০৮