বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বামিজীর সহিত হিমালয়ে - ভগিনী নিবেদিতা (১৯৫১).pdf/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বিতস্তাতীরে পাদচারণা

বাহিরের দিকে এক একটি ত্রিপত্রখিলান স্থাপন করিয়াছিলেন এবং তৎপরে ইহার সহিত সম্মুখভাগে একটি বৃহত্তর মন্দিরাংশ (Nave) জুড়িয়া দিয়াছিলেন। এক উচ্চ ত্রিপত্রখিলান তাহার প্রবেশমার্গ হইয়াছিল। প্রত্যেক সৌধ এত সর্ব্বাঙ্গসুন্দর এবং এই দুই নির্ম্মাণযুগের উদ্দেশ্য এরূপ স্পষ্ট ছিল যে, অঙ্গসংস্থান দেখিয়া নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ হইল, আর ইহা অঙ্কিত না করিয়া একজন ক্ষান্ত হইতে পারিল না। মধ্যস্থলের মন্দিরটির চারিপাশের ধর্ম্মশালা অথবা বারান্দাটি আকৃতিতে অদ্ভুতরূপে গথ-জাতীয় (Gothic) এবং যিনি উহা ও ভারতের উত্তরাংশে মুসলমান-রাজবংশীয় সমাধিগুলি দেখিয়াছেন, তাঁহার নিকট তৎক্ষণাৎ ইহাই মনে হয় যে, উক্ত বারান্দাটি একটা পুরা মঠ হিসাবেই কল্পিত হইয়াছিল এবং আমাদের (ইংরেজদের) শীতপ্রধান দেশে উহা ঐ উদ্দেশ্যে রাখা যাইতে না পারিলেও, উহার অস্তিত্ব সন্ন্যাসের আদিম বাসভূমি যে প্রাচ্য তাহাই দিবারাত্র স্মরণ করাইয়া দিতেছে। ক্ষণমাত্র বিলম্ব না করিয়াই স্বামিজী অবেক্ষণ ও উদ্দেশ্য-নিরূপণে যারপরনাই ব্যস্ত হইলেন এবং দেখাইয়া দিলেন যে, মন্দিরাভ্যন্তরে প্রবেশ করিবার মার্গ হইতে উহার মধ্যাংশের ভিতর দিয়া পশ্চিম দিকে যে কার্ণিশ চলিয়া গিয়াছে তাহার উপরিভাগে পূর্ব্বোক্ত খিলান দুইটির উচ্চ ত্রিপত্র, আবার একটি friezeও বর্ত্তমান; আবার দেবশিশুমূর্তি-বিশিষ্ট প্যানেলগুলি আমাদিগকে দেখাইয়া দিলেন। আমাদের দেখা শেষ হইবার পূর্ব্বেই তিনি দুইটি মুদ্রা কুড়াইয়া পাইয়াছিলেন। সূর্য্যাস্তের আলোতে অশ্বপৃষ্ঠে প্রত্যাবর্ত্তন অতীব রমণীয় হইয়াছিল। পূর্ব এবং পরদিনে যে সকল

১০৯