সলোম পত্রবিশিষ্ট এক নূতন রকমের ফর্গেট-মি-নট্ ফুল দেখিলাম, ঘন-সন্নিবিষ্ট পাতাগুলি রাশীকৃত মখমলের মত দেখাইতেছিল। এমন কি জুনিপারও এস্থানে অতি বিরল ছিল।
এই সকল উচ্চ অংশে আমরা প্রায়ই দেখিতাম যে, আমরা তুষার-শৃঙ্গরাজির মহান্ পরিধিসমূহের মধ্যে রহিয়াছি—এই নির্ব্বাক বিপুলায়তন পর্ব্বতগুলিই হিন্দুমনে ভস্মানুলিপ্ত ভগবান শঙ্করের ভাব উদ্রেক করিয়া দিয়াছে।
২রা আগষ্ট। ২রা আগষ্ট মঙ্গলবারে অমরনাথের সেই মহোৎসব দিনে প্রথম যাত্রিদল নিশ্চয়ই রাত্রি দুইটার সময় ছাউনী হইতে যাত্রা করিয়া থাকিবে। আমরা পূর্ণিমার জ্যোৎস্নালোকে যাত্রা করিলাম। সঙ্কীর্ণ উপত্যকাটিতে পৌঁছিলে সূর্য্যোদয় হইল। রাস্তার এই অংশটিতে গতারাত যে খুব নিরাপদ ছিল, তা নয়। কিন্তু যখন আমরা ডাণ্ডি ছাড়িয়া চড়াই করিতে আরম্ভ করিলাম, তখনই প্রকৃত বিপদের সূত্রপাত হইল। অজাযূথের গতিবিধি-পথের মত একটী ‘পগ্, ডাণ্ডী’ প্রায় খাড়া পাহাড়ের গা দিয়া উঠিয়া অপর পার্শ্বে—উতারের অংশে—শ শষ্পাচ্ছাদিত জমির উপর একটী ক্ষুদ্র সোপানপরম্পরায় পরিণত হইয়াছিল। প্রত্যেক দু'চার পা অন্তর কমনীয় কলাম্বাইন, মাইকেলমাস ডেজি এবং বন্য গোলাপ ফুটিয়া রহিয়াছিল এবং ভয় হইতেছিল পাছে লোকে উহাদিগকে সংগ্রহ করিবার লোভে হাত পা ভাঙ্গে বা প্রাণ খোয়াইয়া বসে! পরে কোনমতে ওপারের উতারটীর তলদেশে পৌঁছিয়া আমাদিগকে অমরনাথের গুহা পর্য্যন্ত ক্রোশের পর ক্রোশ তুষারবর্ত্মের উপর দিয়া বহুকষ্টে যাইতে হইয়াছিল। আমাদের গন্তব্যস্থানের মাইল
১১৯