বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:স্বামিজীর সহিত হিমালয়ে - ভগিনী নিবেদিতা (১৯৫১).pdf/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অমরনাথ

উহা চিরদিনের মত বৰ্দ্ধিতায়তন হইয়া গিয়াছিল। তাঁহার গুরুদেবের সেই কথাগুলি কি অদ্ভুতভাবে পূর্ণপ্রায় হইয়াছিল—“ও যখন নিজেকে জান্‌তে পার্‌বে, তখন আর এ শরীর রাখ্‌বে না।”

 আধঘণ্টা পরে নদীর ধারে একখানি পাথরের উপর বসিয়া সেই সদয়হৃদয় নাগা সন্ন্যাসী এবং আমার সহিত জলযোগ করিতে করিতে স্বামিজী বলিলেন, “আমি কি আনন্দই উপভোগ করিয়াছি! আমার মনে হইতেছিল যে তুষারলিঙ্গটা সাক্ষাৎ শিব। আর তথায় কোন বিত্তাপহারী ব্রাহ্মণ ছিল না, কোন ব্যবসায় ছিল না, কোন কিছু খারাপ ছিল না। সেখানে কেবল নিরবচ্ছিন্ন পূজার ভারই ছিল। আর কোন তীর্থক্ষেত্রেই আমি এত আনন্দ উপভোগ করি নাই!”

 পরে তিনি প্রায়ই আমাদিগকে তাঁহার সেই চিত্তবিহ্বলকারী দর্শনের কথা বলিতেন; উহা যেন তাঁহাকে একেবারে স্বীয় ঘূর্ণাবর্ত্তের মধ্যে টানিয়া লইবে বলিয়া বোধ হইয়াছিল। তিনি শ্বেত তুষারলিঙ্গটির কবিত্বের বর্ণনা করিতেন এবং তিনিই ইঙ্গিত করিলেন, একদল মেষপালকই উক্ত স্থানটি প্রথম আবিষ্কার করিয়াছে। তাহারা কোন এক নিদাঘ দিবসে নিজ নিজ মেষযূথের সন্ধানে বহুদূর গিয়া পড়িয়াছিল ও এই গুহার মধ্যে প্রবেশ করিয়া দেখিয়াছিল যে তাহারা অদ্রতুষাররূপী সাক্ষাৎ শ্রীভগবানের সান্নিধ্যে আসিয়া পড়িয়াছে। তিনি সর্ব্বদা ইহাও বলিতেন, “সেইখানেই অমরনাথ আমাকে ইচ্ছামৃত্যু বর দিয়াছেন।” আর আমাকে তিনি বলিলেন, “তুমি এক্ষণে বুঝিতেছ না। কিন্তু তোমার তীর্থযাত্রাটি সম্পন্ন হইয়াছে এবং ইহার ফলকে ফলিতেই

১২১