পাতা:স্মৃতিকথা (জ্ঞানদানন্দিনী দেবী).djvu/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
 পুরাতনী
২৪
 

আনাতুম। মুখ ধুয়ে কাপড় ছেড়ে লেবু খেতে খেতে ছাতে পায়চারি করতুম। ছেলে বাবুদের মাসহারা বেশি ছিল।

 মা বোধ হয় কৃপণতা করে বাজারের টাকা থেকে কিছু বাঁচাতেন কারণ কর্তামশায় প্রায় পাহাড়ে ভগবানের ধ্যান করে বেড়াতেন বলে কবে বাড়ী আসবেন তাই গুণে বলে দেবার জন্যে দৈবজ্ঞদের পয়সা দিতেন। এক আচার্যানী ও তার ছেলে আসত—তারা তাঁর কল্যাণের জন্য স্বস্তি স্বস্ত্যয়ন করতে বলত, সেজন্য মা মুক্তহস্তে ব্যয় করতেন। মা তাঁর জন্য শুয়ে শুয়ে কেবল ভাবতেন, তাই সংসারের কাজে বড় একটা মন দিতে পারতেন না। এতে অযথা অনেক ব্যয় হত বলে ছেলেরা দরোয়ানকে বলে আচার্যানীর আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু মা সে কথা টের পেয়ে কান্নাকাটি বকাবকি করাতে সে আবার এল।

 এই সময়ে মায়ের খুড়ী, কাকার দ্বিতীয় পক্ষের বিধবা স্ত্রী মায়ের কাছে থাকতে এলেন। তিনি এসে মায়েব ও আমাদের খাওয়া-দাওয়া দেখাশুনো আর অসুখে সেবাশুশ্রূষা করতে লাগলেন; তিনি এসে সবদিকে সকলের সুবিধা হল। তাঁকে আমরা দিদিমা বলতুম। তাঁর ছেলেপিলে ছিল না, তাই ক্রমে আমাদের ওখানেই রয়ে গেলেন। তিনি প্রায় মায়েরই সমবয়সী ছিলেন ও তাঁর বেশ সঙ্গিনী হলেন।

 আমরা তখন শুধু একখানা শাড়িই পরতুম—তার উপর শীতকালে সন্ধ্যাবেলায় হয়ত একটা দোলাই গায়ে দিতুম। বিয়ের আগে ছেলেরা বাইরেই থাকত, বিয়ে হলে সকলেরই একখানা আলাদা ঘর হত, সেখানে রাত্রে শুতে আসত। ওঁর এক বন্ধু ছিলেন মনোমোহন ঘোষ। ওঁর ইচ্ছে যে তিনি আমাকে দেখেন—কিন্তু আমারত বাইরে যাবার জো নেই, অন্য পুরুষেরও বাড়ীর ভিতরে আসবার নিয়ম নেই। তাই ওঁরা দু’জনে পরামর্শ করে একদিন বেশি রাত্রে সমান তালে পা ফেলে বাড়ীর ভিতরে এলেন। তার পরে উনি মনোমোহনকে মশারির মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে নিজে শুয়ে পড়লেন। আমরা দুজনেই মশারির মধ্যে জড়সড় হয়ে বসে রইলুম;