পাতা:স্রোতের গতি - ইন্দিরা দেবী (১৯২১).pdf/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

স্রোতের গতি

১২৭

বিধাতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতই দেখিতে পাওয়া যাইতেছে না কি? ইহাকে অবহেলা করিলে সেই অলক্ষ্য মিলনকর্ত্তার শুভ আদেশ অমান্য করা হইবে।”

 সত্যবতী যুক্তকরে ললাট স্পর্শ করিয়া মনে মনে কহিলেন—“হে সর্ব্বদশী, সর্ব্বনিয়ন্তা, তোমার ইচ্ছাই তবে পূর্ণ হউক। মানবের সীমাবদ্ধ ক্ষুদ্র জ্ঞান তোমার অসীম রহস্য কেমন করিয়া উদ্ভেদ করিতে সমর্থ হইবে?”

 সত্যবতীর নিমন্ত্রণ পাইয়া অমিয়ার বাবা আসিলে, সত্যবতী যথাযোগ্য সম্মানের সহিত তাঁহার পরিচর্য্যার বন্দোবস্ত করিয়া দিলেন। অমিয়ার বিবাহের কথা তুলিলে অমিয়ার বাবা মুখ টিপিয়া একটুখানি শ্লেষের হাসি হাসিয়া কহিলেন—“মেয়ে বড় হইয়াছে বলিয়া সত্যবতীর যে স্মরণ হইয়াছে, ইহাতেই তিনি তুষ্ট হইয়াছেন। কিন্তু এখন এ গ্রাজুয়েট্ কন্যার পাত্র সংগ্রহ করা ত আর তাঁহার ন্যায় গরীব গোবেচারি কেরাণীর দ্বারা সম্ভব নহে,সাধ্যও নহে। এখন কোর্টশিপ—অর্থে, স্বয়ম্বরের আয়োজন আবশ্যক। তাহা শিক্ষিতা কন্যা ও শিক্ষাদাত্রী মাসীমাতার পক্ষে হয় ত অসম্ভব না হইতেও পারে। তিনি এবিষয়ে নিরুপায়।”

 পিতার মুখে নিজ কন্যার প্রতি ব্যঙ্গোক্তি শুনিয়া, রাগে সত্যবতীর সর্ব্বাঙ্গ জ্বলিয়া গেল। কিন্তু নীলকণ্ঠের ন্যায়