পাতা:স্রোতের গতি - ইন্দিরা দেবী (১৯২১).pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৭৪

স্রোতের গতি

দুঃখে সহানুভূতিতে একচিত্ত হইয়া চিরদিনের বাসভবন বাঁধিয়া শান্ত নিরুদ্বেগ জীবন নির্ব্বাহ করিতে পারেন―সে যেন তাহা অনুমানও করিতে পারে না। কি অসাধারণ অধ্যবসায় ও অর্থব্যয়ে বিজ্ঞানের নব নব কৌশলে এবং দেশদেশান্তর হইতে নানা উপাদান সংগ্রহ করিয়া এই বন্যভূমিতে নন্দনের সৌন্দর্য্য―ও অব্যবহৃত জঙ্গলময় দেশের সংস্কার করিয়া দুর্ভিক্ষ-পীড়িত দেশবাসীর প্রচুর খাদ্যের সংস্থান করিয়া দিয়াছেন! অবৈতনিক নৈশ বিদ্যালয়ে নিজব্যয়ে দুইজন উৎসাহী যুবককে শিক্ষকরূপে রাখিয়া, ও নিজে সঙ্গী হইয়া নিরক্ষর বনবাসীদের অজ্ঞানান্ধকারা বৃত-চিত্তে জ্ঞানের আলোক ও আনন্দ বিতরণ করিতেছেন! এমন অক্লান্ত কর্ম্মী, এমন উচ্চ-হৃদয়―যদি শ্রদ্ধা পাইবার যোগ্য না হয়, তবে শ্রদ্ধার যে মূল্য থাকে না! মীনাকেও তিনি ভালবাসেন। ঠিক্ সম-অধিকারে কোদাল হাতে মীনা তাঁহার চাষের কাজে পাশে গিয়া না দাঁড়াক্‌, তবু তাহাকে ঠিক্ দাসী বলা যায় না।

 অমিয়ার মনে হইতেছিল, মীনার ভাগ্য ভাল―কাঁটাবনের মধ্যেও সে গন্ধরাজের আশ্রয় পাইয়াছে। জগতে সবাই যদি প্রাণতোষবাবু হইতেন, তবে আর দুঃখ ছিল কি? রণেন্দ্রেরে কথা অনিচ্ছাতেও বারবার তাহার মনে