পাতা:স্রোতের গতি - ইন্দিরা দেবী (১৯২১).pdf/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

স্রোতের গতি

ভাগিনেয়ের জন্য এই পুরুষ-বিদ্বেষিণী মেয়েটির বিমুখ মন একদিন তিনি ফিরাইয়া আনিতে পারিবেন। তাই তাঁহার টান কিছু বেশী,—কহিলেন—“ও-সব সভা-টভার হাঙ্গাম তুমি ছেড়ে দাও বাছা, এই শরীর নিয়ে খেটে-খেটে শেষে কি একটা বিপদ্ বাধিয়ে বস‍্বে? বরং বিকেল-বেলা আমার ওখানে মধ্যে-মধ্যে যেও। ডলি, অফি এসেচে ছুটিতে, মাঝে মাঝে গড়ের মাঠে হাওয়া খেয়ে এস। আগে শরীর তারপর অন্য কিছু। আমি গাড়ী পাঠিয়ে দেব, যেও মাঝে-মাঝে—বুঝলে?”

 অমিয়া ধন্যবাদ জানাইয়া কহিল—“সুবিধা হয় ত খবর দেবো।”

 “না বাছা, সুবিধা-টুবিধা ওসব চালাকী আমি শুনব না—যেতেই হবে” বলিয়া তিনি উঠিয়া দাঁড়াইলেন। বাহিরে তাঁহার মোটরের হর্ণ ঘন ঘন শব্দ করিয়া ত্বরা জানাইয়া দিতেছিল।

 অমিয়ার মাসীমা সত্যবতীকেও অনেকে অমিয়ার শরীরের দিকে লক্ষ্য রাখিবার অযাচিত উপদেশ দিলেন। সত্যবতী শুধু একটুখানি হাসিলেন, কোন জবাব দিলেন না। বিদায়-পর্ব্ব সারিতে সন্ধ্যা হইয়া গেল। মাথার যন্ত্রণায় অমিয়া “আঃ উঃ” করিতেছিল। সত্যবতী