পাতা:হলুদ পোড়া - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

SOo হলুদ পোড়া সুভদ্রা অৰ্দ্ধেক লোকের দাবী মিটাইয়া উঠিতে পারিল না ; সকলেই সুভদ্রার গানের প্রশংসা করিতে চায়, বলিতে চায় যে ৰেগুনি ফুলুরির এমন স্বাদ তো জীবনে তারা পায় নাই। সঙ্কীর্ণ বারান্দায় উবু হইয়া বসিয়া আর বারান্দার সামনে গোল হইয়া দাড়াইয়া সকলে যেন একটি বৈঠক বসাইয়া দিল । লোচন কামার প্রতিমা গড়িতে ওস্তাদ, একটি মাত্ৰ বেগুনি খাইয়া যেন নেশা হইয়াছে এমনি ভাবে সে আধঘণ্টা হঁ। করিয়া চাহিয়া রহিল সুভদ্রার বুকের দিকে, আর ভাবিতে লাগিল, একটিবার মুহূৰ্ত্তের জন্য কাপড়ের নীচে সুভদ্রার স্তন দু’টি দেখিতে, পাইলেই সে ঠিক বুঝিতে পারিত তার প্রতিমার বুকের মাটির ঢিপিগুলির চেয়ে ও দু’টি নিটােল বৰ্ত্তালাকার কি না। সতীশ গোয়ালা ভাবিতে লাগিল, ইনি নিশ্চয় সাক্ষাৎ ভগবতী। বংশী হালদার সারাদিন মিউনিসিপ্যালিটির ট্যাক্স আদায় করিয়ী ঘুরিয়া বেড়ায়, সুভদ্রার গেরুয়া বেশ যেন । রোদে ঝলসানো সহরের সুরকির পথের মত চোখে তার ধাঁধা লাগাইয়া দিতে লাগিল। নটাবর একজন বড়লোকের খাতিরের খানসামা, সে ভাবিতে লাগিল, সুভদ্ৰাঁর সঙ্গে একবার যদি ঘনিষ্ঠতা করাইয়া দেওয়া যায়, কি খুন্সীই বাবু হইবেন। এই চারজন ছাড়া সকলেই কম বেশী কথা বলিখেতছিল, দু’একজন কথা বলিবার চেষ্টায় গিলিতেছিল টোক । ‘এবার আমি রাঁধতে যাই ? বলিয়া এক সময় সুভদ্রা ভিতরে চলিয়া গেল। আবার দোকান খুলিল একেবারে সেই বিকালে। একবেলাতেই দোকানদারিতে তার বিতৃষ্ণা জন্মিয়া গিয়াছে। লোকগুলি বড় ভেঁাতা, বড় নীরস । " বেগুনি ফুলুরি কিনিতে আসিয়া তাকে যেন সকলেই বাধিৰ্ম্ম ফেলিতে চায়, তার সাহচর্য্যে ভুলিয়া যাইতে চায় নিজেদের । বিকালেও খদের আসিল অনেক এবং দিন দিন খন্দেরের সংখ্যা বাড়িতে লাগিল। তখন বেগুনি ফুলুরি ভাজিকু জন্য একজন লোক,